শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষার রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ

জুন ২৬, ২০১৮ | ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: সব ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষার করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে গঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কমিটির প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৬ জুন) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্টে বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ২১ মে বাজারের সকল ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে এক মাসের সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

আদালতের এ নির্দেশের পর বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওই কমিটির পক্ষ থেকে আজ ছয় মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তখন তাদের এক মাসের সময় দেন।

আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মো. তনভীর আহমেদ, সঙ্গে ছিলেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ। অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কমিটি সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পরে রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, ‘এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২১ মে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল বাজারের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে একটি প্রতিবেদনটি দাখিলের জন্য।

কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত এক মাসে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। সেটিই তারা আদালতকে অবহিত করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ছয় মাস সময় চায়। এ সময় আমাদের পক্ষ থেকে আপত্তি জানালে আদালত আজ থেকে ৩০ দিন সময় দিয়েছেন। বাজারের সকল পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে এই সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে হবে।

আইনজীবী তানভীর বলেন, ‘দুধ এমন একটি খাদ্য যেটি সব বয়সী মানুষের জন্যই আদর্শ খাদ্য; বিশেষ করে শিশুদের জন্য। এমন একটি খাদ্যে যদি ভেজাল থাকে বা মান সম্পন্ন না হয় তবে তা অনিবার্যভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি। ফলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই খাদ্যটি নিরাপদ করা দরকার। ছয় মাস দীর্ঘ সময়। তাই আমরা আপত্তি জানিয়েছি।’

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটিতে সদস্যরা করা হয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, ডেইরি মাইক্রোবায়োলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রতিনিধি, ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবের সহযোগী গবেষক ও প্রধান ড. মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, বিএসটিআই’র বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, ন্যাশনাল কনসালটেন্টের ডা. কুলসুম বেগম চৌধুরী, বিএসটিআই’র বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপসচিব আবু সহিদ ছালেহ মো. জুবেরী।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এই কমিটি বাজারের সকল পাস্তুরিত দুধের অস্তিত্ব ও উৎস চিহ্নিতকরণ এবং এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ, বাজারে পাস্তুরিত দুধ বাজারজাত করণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।

এই কমিটিকে আনুসাঙ্গীক সহায়তা দিবে বাংলদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ২১ মে রুল জারি করে এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

সারাবাংলা/এজেডকে/এমআই

বিজ্ঞাপন
Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন