রাজধানীর একটি হোটেলে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের প্লেয়ার্স নিলাম। নিলামে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ক্রিকেটারকে দলে ভিড়িয়েছে দলগুলো। তবে প্রথম ডাকে দল পেয়েছিলেন না দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে তাদের নাম ডাকা হলে ছয় দলের কোনো দলই তাদের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। পরে অবশ্য দল পেলেন দুই সিনিয়র ক্রিকেটার।
নিয়ম অনুযায়ী ‘বি’ ক্যাটাগরির ডাকে অবিক্রিত ক্রিকেটারদের পরে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ডাকে তোলার কথা ছিল। সেক্ষেত্রে তাদের ভিত্তিমূল্য হতো ২২ লাখ টাকা। কিন্তু মুশফিককে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে তোলা হয়নি। তাদের প্রতি ‘সম্মান’ দেখিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকেই ডাকা হয়েছে দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে। তাতে ৩৫ লাখ টাকায় মাহমুদউল্লাহকে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স আর মুশফিকুর রহিমকে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
এর আগে ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে তাওহিদ হৃদয়কে ৯২ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। অলরাউন্ডার শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে ৫৬ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকেও নিয়েছে ঢাকা। সাইফকে ৬৮ লাখ টাকায় দলে ভিড়িয়েছে রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এদিকে, ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ টাকায় তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে দলে নিয়েছে সিলেট টাইটান্স।
‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা নাঈম শেখ ও লিটন দাস প্রথম ডাকে বিক্রি হয়েছে। নিলামের প্রথমে ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার হিসেবে নাম উঠে নাঈম শেখের। তার ভিত্তিমূল্য ছিল ৫০ লাখ টাকা। শুরুতে তার প্রতি আগ্রহ দেখায় সিলেট টাইটান্স। এরপর নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস নাঈমকে দলে ভেড়াতে ডাকেন। শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় নাঈমকে দলে ভিড়িয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
গত বিপিএলে ১৪৪ স্ট্রাইক রেটে ৫১১ রান করেছিলেন নাঈম, টুর্নামেন্টে যা ছিল সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। দ্বিতীয় ডাকে উঠে লিটন দাসের নাম। লিটনের ভিত্তিমূল্যও ছিল ৫০ লাখ টাকা। রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের মধ্যে লড়াইয়ের পর লিটনকে ৭৫ লাখ টাকায় কিনেছে রংপুর।
বেশ কয়েক বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিপিএলের নিলাম। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই আসর অবশ্য নিলামই হয়েছিল। তবে তৃতীয় আসর থেকে প্লেয়ার ড্রাফটের পদ্ধতিতে হাঁটে বিসিবি। সেক্ষেত্রে পছন্দের খেলোয়াড় কেনার বিষয়টি নির্ভর করত অনেকটা ভাগ্যের ওপর।
একদশ বিপিএল পর্যন্ত চলেছে সেই ড্রাফট পদ্ধতি। এবার আবারও ফিরেছে নিলাম পদ্ধতি। এতে একজন খেলোয়াড়কে কেনার সুযোগ থাকবে সব ক্লাবের। প্লেয়ারকে সেই দলই পাবে সে টাকার অঙ্কটা বেশি হাঁকাতে পারবে।
নিলামের আগেই দলগুলো অবশ্য একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি সেরেছেন। নিয়ম অনুযায়ী নিলামের বাইরে মোট চারজন ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। সেই সুযোগ নিয়ে মোট ২৩ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে আগেই চুক্তি করে ফেলেছে দলগুলো।
সবকিছু ঠিক থাকলে এবারের বিপিএল মাঠে গড়ানোর কথা ২৬ ডিসেম্বর। আজ নিলামে জায়গা পেয়েছেন মোট ৪১৫ জন ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে স্থানীয় খেলোয়াড় ১৫৮ জন, বিদেশি ২৫৭ জন। সবমিলিয়ে অন্তত ৮৪ জন ক্রিকেটার দল পাবেন।