গতকাল বিকেল থেকেই গুঞ্জন- দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সন্ধ্যার পর গুঞ্জনে ডালপালাও মেলে। দেশের ক্রিকেটের টালমাটাল অবস্থায় বিসিবি সভাপতির দেশ ছাড়ার আলোচনাটা অনেকে ভিন্ন ভাবে বর্ণনা করেছে। দেশ ছাড়ার আগে বিসিবি সভাপতি নাকি বলেছেন ‘কোথায় যাচ্ছি জানি না’ সংবাদমাধ্যমে এমন কথা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে আজ সেসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্ব-শরীরে বিসিবিতে হাজির হন বুলবুল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘দেখছেনই তো, দেশেই আছি।’
দীর্ঘদিন যাবত আমিনুল ইসলামের পরিবার থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। বলা হচ্ছিল, বিপিএল শেষে সেখানেই উড়াল দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
এর আগে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, আপাতত দেশের বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। বিসিবিতে অনেক কাজ, বিপিএলের পর সেসব কাজে হাত দিবো। আজ বিসিবিতে ফিরে সেই কথাটাই স্মরণ করিয়ে দিলেন আমিনুল ইসলাম।
ফারুক আহমেদের জায়গায় বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। পরে নির্বাচনে পুর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পান। অবশ্য নির্বাচনে পক্ষপাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল একটি প্যানেল।
পুর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার পর আমিনুল ইসলামের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে অচল অবস্থা। বিসিবির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করা ক্লাবগুলো ক্রিকেট বয়কটের ডাক দিয়েছে। বিপিএলের শেষ দিকে ফিক্সিংয়ের আলোচনা উঠেছে। ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠায় পদত্যাগ করেছেন খোদ বিসিবির একজন পরিচালক। বিসিবির আরেক প্রভাবশালী পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকও পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কথা বলেছিল বিসিবি। ভারতের বদলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছিল।
আইসিসি সেই দাবি মানেনি। বিসিবিও নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছে। ফলাফল বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। এসব নিয়ে নানান চাপের মুখেই আছেন বিসিবি সভাপতি।