বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আবারও সোচ্চার হলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এবার তিনি সমর্থন জানিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে। একই সঙ্গে বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
সম্প্রতি একটি প্রীতি ম্যাচে মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগানের শিকার হন ইয়ামাল। স্পেন ও মিসরের ম্যাচ চলাকালে গ্যালারির একটি অংশ থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্লোগান দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তীব্র প্রতিবাদ জানান ইয়ামাল। তিনি বলেন, ধর্মকে কৌতুক বা অপমানের উপকরণ বানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইয়ামাল লিখেন, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে একটি স্লোগান শোনা যাচ্ছিল– “যে লাফাবে না, সে-ই মুসলিম।” আমি জানি এটি প্রতিপক্ষ দলকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কিছু ছিল না, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং অসহনীয়। জানি সব সমর্থক একরকম নয়, কিন্তু যারা এ ধরনের স্লোগান দেয় তাদের বলছি, মাঠের ভেতর ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞ ও বর্ণবাদী হিসেবেই তুলে ধরে। ফুটবল উপভোগ করা এবং দলকে উৎসাহিত করার মাধ্যম, কাউকে তার পরিচয় বা বিশ্বাসের জন্য অসম্মান করার জন্য নয়।’
ইয়ামালের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে তার সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিনি বলেন, ‘এ বিষয়টা এত বেশি ঘটে যে এটি নিয়ে কথা বলাটা সবসময়ই কষ্টদায়ক। আশা করি আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লামিনে এটি নিয়ে কথা বলেছে। যা অন্যদেরও সহায়তা করবে। আমাদের খ্যাতি ও টাকা আছে, ফলে এসব বিষয়ে আমরা ভারসাম্য করতে পারি। কিন্তু যারা দরিদ্র এবং সবখানেই কৃষ্ণাঙ্গ আছে, আমাদের চেয়ে নিশ্চিতভাবে তাদের সংগ্রামটা অনেক বেশি। তাই আমাদের এক হতে হবে, এমন ব্যক্তিদের (খেলোয়াড়) আওয়াজ শক্তিশালী…।’
ভিনিসিয়ুস নিজেও বারবার বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ‘বানর’ বলে অপমানিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। পরে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ওই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের দাড়াও বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ভিনিসিয়ুস মনে করেন, বর্ণবাদ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক একটি চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে স্পেন, জার্মানি কিংবা পর্তুগাল বর্ণবাদী দেশ। তবে এসব দেশে বর্ণবাদী মানুষ আছে এবং ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশেও। এজন্য (এর বিরুদ্ধে) আমাদের একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আশা করি ভবিষ্যতে কোনো ফুটবলার, সাধারণ মানুষ বা কেউই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না।’