Ad

বিজ্ঞাপন

কাদেরের পক্ষত্যাগই কাল হলো বাবুলের, কিলিং মিশনে ‘ফেনী গ্রুপ’

January 13, 2021 | 10:41 pm

রমেন দাশ গুপ্ত, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে নির্বাচনি সংঘাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আজগর আলী বাবুলকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তার পরিবারের। স্বজন ও এলাকাবাসীর বক্তব্য, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজ এলাকায় জনপ্রিয় বাবুল নগরীর পাঠানটুলি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরের পক্ষে ছিলেন এবং তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি কাদেরের পক্ষত্যাগ করে নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সঙ্গে যোগ দেন। পক্ষত্যাগ করায় বাবুলের জন্য কাল হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

Ad

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিহতের পরিবারসহ নানাজনের কাছ থেকে যেসব অভিযোগ ও বক্তব্য আসছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। তবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাও।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার মগপুকুর পাড় এলাকায় পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) মারা যান।

Ad

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাঠানটুলি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। সিএমপির একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী গতবারের কাউন্সিলর আবদুল কাদের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

ঘটনার পর আবদুল কাদেরসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন নিহত আজগর আলীর ছেলে সেজান মোহাম্মদ সেতু। কাদের ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— হেলাল উদ্দিন, ওবায়দুল কবির মিন্টু (৪০), আব্দুল ওয়াদুদ রিপন (৪২), আব্দুর রহিম রাজু ওরফে বিহারি রাজু (৪৫), আসাদ রায়হান (২৯), আলা্উদ্দিন আলো ওরফে পিচ্চি আলো (৩৫), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ দিদু (৪৮), সালাউদ্দিন সরকার (৪৫), দেলোয়ার রশিদ (৪২), মো. আলমগীর (৪৫) ও আব্দুল নবী (৪৭)।

ঘটনার পর পুলিশ কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে কাদেরসহ ১১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আদালত কাদেরসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পক্ষত্যাগ করায় বাবুলকে খুন করে কাদের

আজগর আলী বাবুলের বাসা নগরীর সদরঘাট থানার মোগলটুলি কাটা বটগাছ লেন এলাকায় হাকিম আলী সওদাগর বাড়ি। বুধবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গলির মুখে পুলিশ মোতায়েন আছে। নজির মঞ্জিল নামে বাবুলের বাড়িটিতে এলাকার লোকজনের আনাগোনা আর থেমে থেমে কান্নার আওয়াজ। গলিপথজুড়েও মানুষের জটলা। সবার মধ্যেই উৎকণ্ঠা। রিকশায় মাইক লাগিয়ে বাবুলের মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে এভাবে— ‘চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের গুলি করে এলাকার সর্দার ও আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলী বাবুলকে খুন করেছে। তার নামাজে জানাজা...’

কাদেরের দুই ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী সবাই শোকাতুর। বাসায় গিয়ে কথা হয় বাবুলের মা জ্যোৎস্না বেগমের সঙ্গে। কান্না করতে করতে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাছ কাদের মেরেছে। বাবুল গতবার (২০১৫ সাল) কাদেরের সঙ্গে থেকে তাকে কমিশনার (কাউন্সিলর) বানিয়েছে। তখন এলাকার সবাই বলছিল— বাবুল, তুমি একজন সন্ত্রাসীর পাশে কেন হাঁটো? সেজন্য এবার বাবুল আমাদের আত্মীয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের পক্ষ নিয়েছে। বাবুল বিপক্ষে থাকলে কাদের ভোট পাবে না বুঝতে সে আমার ছেলেকে খুন করেছে।’

কাদের স্বজনদের সান্ত্বনা জানাতে আসা পাঠানটুলি ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য স্থানীয় শিল্পী বসাক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাবুল ভাই আমার স্বামীর বন্ধু। কাদের ও হেলাল উনাকে গুলি করেছে। তাদের সঙ্গে মাছ নবী, মিন্টু, বিহারী রাজু, পানি বাবুলসহ অনেক সন্ত্রাসী ছিল। গতবার বাবুল ভাই কাদেরের পক্ষে থাকায় বাহাদুর ভাই হেরে যান। এবার বাবুল ভাই বাহাদুর ভাইয়ের পক্ষ নেওয়ায় কয়েকদিন আগে কাদের তাকে ফোন করে হুমকি দেয়। মূলত বাহাদুর ভাই আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাওয়ার পরই কাদেরের সঙ্গে বাহাদুর ভাইয়ের দূরত্ব তৈরি হয়।’

পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা রহুল আমিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এলাকার মানুষ বাবুল ভাইকে অনেক সম্মান করেন। উনি এলাকার সর্দার। উনি যাকে ভোট দিতে বলবেন, এলাকার অনেক মানুষ সেটা বিবেচনা করবেন। বাবুল ভাই এবার কাদেরের বিরোধিতা করছিলেন, সেজন্য তাকে খুন করা হয়েছে। কাদের সন্ত্রাস করে নির্বাচনে জেতার পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য মোগলটুলির একটি ওয়ার্কশপে ৪০টি কিরিচ বানাতে দিয়েছিল। বাবুল ভাই সেটা পুলিশকে জানিয়ে দেন। মূলত সেখান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডবলমুরিং থানার একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, মোগলটুলিতে ফাতেমা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি কারখানায় আবদুল কাদেরের নির্বাচনি প্রতীক ব্যাডমিন্টন বানানো হচ্ছিল। কিন্তু ব্যাডমিন্টনগুলো তৈরি করা হচ্ছিল লোহার কাঠামো দিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ধারালো পাত। সহিংসতা তৈরির জন্য ব্যাডমিন্টনের নামে ধারালো অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল বলে পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন আজগর আলী বাবুল।

পাঠানটুলি ওয়ার্ডে ২০১৫ সালে আবদুল কাদেরের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন এবারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাবুল গতবার কাদেরের পক্ষে ছিল। এবার যেহেতু দল আমাকে নমিনেশন দিয়েছে, সে আমার পক্ষে কাজ শুরু করে। সেজন্য বাবুলকে টার্গেট করে কাদেরই খুন করেছে।’

হত্যকাণ্ডের মাত্র একদিন আগে সোমবার (১১ জানুয়ারি) ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আজগর আলী বাবুলও। ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি বলে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নেত্রীর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। কে-এই মাছ কাদের ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা?’

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয় যে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি না। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আমরা শুনেছি। সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ সংক্রান্ত যত অভিযোগ, যত বক্তব্য আসছে সব আমরা বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত করব।’

জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাত্র তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত নাকি তাৎক্ষণিক, এটা বলতে একটু সময় লাগবে।’

কিলিং মিশনে ফেনী গ্রুপ!

মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে পুলিশ যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে, নাম প্রকাশ করে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সেগুলো জানাতে রাজি হননি। তবে বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে নানা তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহারে বাদী নিহতের ছেলে সেজান উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সঙ্গে তিনিও তার বাবাসহ অনেকেই মগপুকুর পাড় এলাকায় জনসংযোগে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মগপুকুর জব্বার সওদাগর বিল্ডিংয়ের সামনে পৌঁছালে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়।’

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এসময় কাদেরের নির্দেশে হেলাল, আব্দুল ওয়াদুদ রিপন, আব্দুর রহিম রাজু, আসাদ রায়হান তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর, আজগর আলী বাবুল ও মাহবুবকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়ে। অন্য আসামিরা তাদের হাতে থাকা লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাতারি মারধর শুরু করে। গুলি তার বাবা আজগর আলী বাবুলের পিঠের বাম পাশে এবং মাহবুবের ডান পায়ের উরুতে লাগে। আজগর আলী বাবুলকে বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মাহবুবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

পুলিশ সূত্রমতে, আবদুল কাদেরের অনুসারী হেলাল এবং আসাদ রায়হান দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল থেকে গুলি করেছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। হেলালের বাড়ি ফেনী জেলায়। তার বোনের বাসা মোগলটুলিতে। তিনি মাঝে মাঝে বোনের বাসায় এসে অবস্থান করেন। হেলাল ফেনীকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কাদেরের সঙ্গে ফেনী থেকে আসা আরও কয়েকজন বহিরাগত ছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব তথ্য পুলিশ এখন যাচাই-বাছাই করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর পুলিশের পশ্চিম জোনের এক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফেনীর প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ক্যাডার হিসেবে হেলালের পরিচিতি আছে। মোগলটুলিতে অবস্থান করে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে। সংঘর্ষে যারা কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের মধ্যে ফেনীর আরও কয়েকজন ছিল বলে শুনেছি। এটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ঘটনাস্থলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ভাঙা

সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর মগপুকুর পাড় এলাকায় লাগানো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ হওয়া দৃশ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল পুলিশ। তবে সেখানে সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশে সাতটি সিসি ক্যামেরা ছিল। সেগুলো থেকে আমরা কোনো ফুটেজ পাইনি। সেগুলো ভাঙা-নষ্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা, ঘটনার আগে কোনো পক্ষ সেগুলো নষ্ট করে দিয়েছে যেন কোনো দৃশ্য সংরক্ষণ না হয়।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সিসি ক্যামেরা নষ্ট দেখে তাদের কাছে ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত মনে হচ্ছে। তবে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কাদেরের অনুসারীও থাকায় এ নিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না। কাদেরের অনুসারী আহত মিন্টুর মাথায় ১৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিন্টুকে নজরবন্দি করে রেখেছে পুলিশ।

এছাড়া অলি নামে এক ব্যক্তি ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি নিজেকে পথচারী পরিচয় দিলেও পুলিশ তাকে কাদেরের অনুসারী হিসেবে শনাক্ত করেছে।

বাবুলের জানাজায় ছিলেন না মাহতাব-নাছির

বুধবার বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদে সরকারি কমার্স কলেজের সামনে সড়কে নিহত আজগর আলী বাবুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীসহ মহানগর আওয়ামী লীগের সামনের সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে দুই শীর্ষ নেতা নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জানাজায় ছিলেন না। এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শোনা গেছে।

জানাজা শুরুর আগে বাবুলের ছেলে সেজান মোহাম্মদ সেতু তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার বাবাকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। মাছ কাদের, রিপন, হেলালসহ অনেক সন্ত্রাসী জড়িত ছিল।’

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ ও শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, নির্বাহী সদস্য কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের হাসান মুরাদ, আসিফ খান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ, নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি লুৎফুল এহসান শাহ।

জানাজা শেষে রেজাউল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। সন্ত্রাসী মানে সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু। যথাযথ আইনের আওতায় এনে বাবুলের খুনিদের শাস্তির বিধান করা হবে বলে আমি আশাবাদী।’

ইন্ধনদাতাদের বিচার চান ক্ষুব্ধ নওফেল

জানাজা শেষে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কমার্স কলেজের সামনে পৌঁছান। এসময় তিনি মরদেহের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও নিহতের দুই ছেলেকে সান্ত্বনা দেন।

উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে নওফেল বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি মহল চক্রান্ত করছে। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে আমাদের একজন প্রার্থীর সক্রিয় সমর্থক একজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত এবং পর্দার আড়াল থেকে যারা উসকানি দিয়েছে, সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’

বেরিয়ে যাওয়ার সময় নওফেলের সামনে আসেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ। তিনি নওফেলের তোপের মুখে পড়েন। ক্ষুব্ধ নওফেল ওসির উদ্দেশে করে বলেন, ‘এই এলাকায় বারবার সংঘাত তৈরি হচ্ছে। একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বারবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। তাদের বিরুদ্ধে আপনারা (পুলিশ) কী করেছেন? বারবার অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় তারা খুনের সাহস দেখিয়েছে। যে অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে, সেটি এখনও উদ্ধার হলো না কেন, আমি জানতে চাই।’

কঠোর বার্তা দিয়েছি: সিএমপি কমিশনার

নির্বাচনি সংঘাতে একজন নিহতের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউন্সিলর প্রার্থীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার সারাবাংলাকে বলেন, ‘যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটা ঘটে গেছে, এর উপযুক্ত কঠোর অ্যাকশনই আমরা নিয়েছি। আমি মনে করি একটা একটা কঠোর বার্তা আমরা পৌঁছাতে পেরেছি। দুষ্কর্ম করার মানসিকতা যাদের আছে, তাদের কাছে এটা অবশ্যই কঠোর বার্তা। কে দলীয় প্রার্থী আর কে বিদ্রোহী, এটা আমরা বিবেচনা করব না। যারাই দুষ্কর্মে জড়িত হবেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ঠেকাতে চেকপোস্ট, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান জোরদারের পাশাপাশি সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখার কথাও জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad