Ad

বিজ্ঞাপন

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন: দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ বাংলাদেশ

February 27, 2021 | 12:26 am

স্টাফ করেসপনডেন্ট

ঢাকা: এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। এতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষে একটি বড় অর্জন হলো বাংলাদেশের। পাঁচ দিনব্যাপী নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভা শেষে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এলডিসি থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে বাংলাদেশকে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে গণভবনে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Ad

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, জাতিসংঘের হিসেবে বিশ্বে তিন ধরনের দেশ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে—উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত বা এলডিসি। জাতিসংঘ হিসাবটি করে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বা সঙ্কট সূচক অনুযায়ী। বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশসহ ৪৭টি দেশ স্বল্পোন্নত তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি দিয়ে থাকে জাতিসংঘ। এই মূল্যায়ন করে সিডিপি। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে অন্তত ছয় বছর লাগে।

Ad

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ২০১৮ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করে। ২০২১ সালে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মিলবে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সব শর্ত পূরণ হওয়ায় এবারের বৈঠক শেষে সিডিপি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার স্বীকৃতির জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) সচিব ড.শামসুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, “এটি জাতি হিসেবে আমাদের বড় অর্জন। আমরা এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। তবে কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও সুযোগও তৈরি হবে অনেক। ক্রেডিট রেটিং অনেক বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যেই আমরা মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। তাছাড়া এফটিএ, পিটিএসহ বিভিন্ন চুক্তির প্রস্তুতি চলছে। ফলে বাণিজ্য বাড়বে। এছাড়া পণ্য বৈচিত্রায়নসহ রফতানি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে এলডিসি উত্তরণ হলেও কোনো সমস্যা হবে না। আমরা সেই সামর্থ্য ও যোগ্যতা অর্জন করেই এলডিসি উত্তরণ করছি। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই”।

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসার পর অর্থনীতিতে বেশ কিছু ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে দাতাদের কঠিন শর্তের মুখে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভাবমূর্তি উন্নয়নের ফলে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক ঋণ পাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বহির্বিশ্বে জাতি হিসেবে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন করে অনেক দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও সুযোগ তৈরি হবে।

সারাবাংলা/জেজে/আইই

Ad

বিজ্ঞাপন

Tags:

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad