Ad

বিজ্ঞাপন

নবজাতক থেকে বয়স্ক— করোনার বিদেশি ভ্যারিয়েন্ট সব বয়সীদের মাঝেই

April 8, 2021 | 1:06 pm

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির অবনতি ঘটছেই। প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিয়ে অনীহা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসের যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট। এসব ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে কাজ করে থাকে। অন্যান্য দেশের মতো এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর দেখা মিলেছে বাংলাদেশেও। শুধু তাই নয়, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য বলছে— নবজাতক শুরু করে তরুণ কিংবা বয়স্কদের মধ্যেও এসব ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি দেখা গেছে।

Ad

বিজ্ঞাপন

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দেশে যুক্তরাজ্যে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট (B.1.1.7 variant 20I/501Y.V1) শনাক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ফেব্রুয়ারিতে শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট (B.1.351 variant 20H/501Y.V2)। আর ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট (ই৪৮৪কে মিউটেশন) শনাক্ত হয় গত মার্চে। এই তিন দেশের করোনা ভ্যারিয়েন্ট এখন পর্যন্ত যতগুলো পাওয়া গেছে, তার বেশিরভাগই অবশ্য মার্চের।

এর মধ্যে বুধবার (৭ এপ্রিল) নিজেদের এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর’বি) বলছে, মার্চের শুরুর দিকেও যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টই বেশি ছিল দেশে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টটি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। আর চতুর্থ সপ্তাহে গিয়ে গবেষণার ফল বলছে, ৫৭টি নমুনার সিকোয়েন্সিংয়ে ৪৬টিই (৮১ শতাংশ) ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট।

Ad

বিজ্ঞাপন

জার্মান সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএইড) আর্কাইভে এসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। জিআইএসএইড-এর তথ্য বলছে, কেবল ঢাকা বা চট্টগ্রাম নয়, বরং দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের করোনা ভ্যারিয়েন্ট।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট {B.1.351 variant (20H/501Y.V2)}

বাংলাদেশে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায় ২৪ জানুয়ারি সংগ্রহ করা এক নমুনায়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এই নমুনার তথ্য আপলোড করা হয় জিআইএসএইড-এ। সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর কাছ থেকে নমুনাটি সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, সেখান থেকে নমুনাটির জিনোম সিকোয়েন্সিং হয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) ল্যাবে।

এই ভ্যারিয়েন্ট দ্বিতীয়বারের মতো পাওয়া যায় ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি থেকে সংগ্রহ করা এক নমুনায়। ওই ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর। পরদিন ঢাকার মানিকগঞ্জ থেকে ৫৫ বছর বয়সী এক পুরুষের নমুনাতেও এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে মার্চে। এর মধ্যে ৯ মার্চ ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুরের ৬০ বছরের বয়সী এক পুরুষ ও ১১ মার্চ সংগ্রহ করা ঢাকার ৯ বছরের এক শিশুর নমুনায় এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এছাড়া ১৪ মার্চ ঢাকার ৪১ বছর বয়সী এক পুরুষ, ১৬ মার্চ ঢাকার ৫০ বছর বয়সী এক নারী, ১৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের একটি শিশু, ১৮ মার্চ ঢাকার ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী ও চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৬ বছর বয়সী এক পুরুষের নমুনাতেও মিলেছে এই ভ্যারিয়েন্ট।

এ বছরের ২১ মার্চ সংগ্রহ করা চার নমুনাতে ছিল এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি। এর মধ্যে একটি সংগ্রহ করা হয় ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর জেলার ৩২ বছর বয়সী এক পুরুষের কাছ থেকে, বাকি তিনটি নমুনা সংগ্রহ করা হয় ঢাকা থেকে। তাদের একজন ৫৫ বছর বয়সী এক পুরুষ, একজন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ এবং একজন ৩২ বছর বয়সী এক নারী।

পরদিন ২২ মার্চ ঢাকায় ৩৪ বছর বয়সী এক পুরুষের কাছ থেকে নেওয়া নমুনা সিকোয়েন্সিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ২৩ মার্চ এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায় ঢাকার ৪৬ বছর বয়সী এক পুরুষের কাছ থেকে নেওয়া নমুনায়।

এছাড়া ২৫ মার্চ খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার ৬৫ বছর বয়সী এক নারী ও ২৬ মার্চ ঢাকার ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর করোনা নমুনায় পাওয়া যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি।

দেশে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট {B.1.1.7 variant (20I/501Y.V1)}

গত বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিলেটে এক নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় প্রথম যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এ বছরের ৪ জানুয়ারিও সিলেটেরই আরেক নারীর শরীরে পাওয়া যায় এই ভ্যারিয়েন্ট। ৩১ জানুয়ারি এই দুইটি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য আপলোড হয় জিআইএসএইড-এ।

৯ জানুয়ারি ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর নমুনাতে পাওয়া যায় যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট। একদিন পর ১১ জানুয়ারি ৪৪ বছর বয়সী একজন পুরুষের নমুনাতেও এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। দুই সপ্তাহ পর ২৫ জানুয়ারি সংগ্রহ করা ৭৫ বছর বয়সী একজনের নমুনাতেও ছিল এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি। এই তিনটি নমুনাই সংগ্রহ করা হয় সিলেট থেকে।

জিআইএসএইড-এর তথ্য বলছে, ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষের নমুনায় ছিল যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট। এ মাসে এই ভ্যারিয়েন্টের আর কোনো তথ্য নেই, তবে মার্চে রয়েছে বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে ৯ মার্চ ঢাকার ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ ও ১৪ মার্চ আরেকজনের (বয়স ও স্থান জানা যায়নি) নমুনায় এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০ মার্চ ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা ৩৮ বছর বয়সী এক পুরুষের নমুনা সিকোয়েন্সিং করে করেও যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

প্রকাশের অপেক্ষায় আরও সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফল

দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের গতিবিধি বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে। তবে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জিআইএসএইড-এ সিকোয়েন্সিংয়ের ডাটা সাবমিট করা হয়নি। কিছু ডাটা সম্প্রতি সাবমিট করা হয়েছে, যা খুব দ্রুতই প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে। এই সিকোয়েন্সিংগুলোতেও দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি।

এছাড়াও দেশের ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, সিলেট, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে পাওয়া গেছে 20B ও 20A নামে আরও দুইটি ভ্যারিয়েন্ট।

দেশের অন্যান্য ল্যাবের নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে ১৫টি নমুনায় পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিকোয়েন্সিং করে এ সময় একটিতে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট ও একটিতে ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সবশেষ মার্চে ২৮টি নমুনায় পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি। এসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য শিগগিরই জিআইএসএইড-এ জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ল্যাব কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

দেশে কোভিড-১৯ বিষয়ক জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘নতুন স্ট্রেইন আসবে— এটাই স্বাভাবিক। সব তো খোলা। তবে ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে, তা এখনই বলা যাবে না। ট্রান্সমিশন তো আমরা কখনো আটকাতে পারিনি। সংক্রমণ চলমানই ছিল।’

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম সারাবাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে চার হাজারেরও বেশি মিউটেশন হয়েছে। যেহেতু এটি আরএনএ ভাইরাস, তাই এটি বিভিন্ন ধরনের মিউটেশনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত রূপ পরিবর্তন করে। সব মিউটেশন যে খারাপ, তা কিন্তু না। তবে এখন পর্যন্ত এর তিনটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট, যেটা কেন্ট ভ্যারিয়েন্ট নামে পরিচিত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্ট।

তিনি বলেন, এই ভ্যারিয়েন্টগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত। তারপর ডেমোগ্রাফিক ডেটাতেও দেখা যায়, বিভিন্ন দেশে কিভাবে সংক্রমণ বিস্তার করছে ও ফ্যাটালিটির কারণ হচ্ছে। অর্থাৎ কতজন মানুষ মারা যাচ্ছে ও কতজনের ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারণ করছে— এসব নিয়ে গবেষণা চলছে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এই ভ্যারিয়েন্টকে সেকেন্ড ওয়েভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় যে বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে তা হলো— এটি অনেক বেশি দ্রুত ছড়ায়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সংক্রমণের প্রায় ৯০ শতাংশই এই ভ্যারিয়েন্ট।

ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এই গবেষক বলেন, সেখানে হঠাৎ করে যে সংক্রমণ বাড়লো এবং অনেক মানুষের মৃত্যু হলো, এর পেছনে অন্যতম কারণ এই পি.১ ভ্যারিয়েন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টটা অবশ্য একটু ভিন্ন। এটি খুব বেশি বিস্তার লাভ না করলেও এই ভ্যারিয়েন্টে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড এই ভ্যারিয়েন্টের ওপর তেমন কার্যকারিতা দেখাতে পারছে না। ফাইজার ও মডার্না অবশ্য বলছে তাদের ভ্যাকসিন এই ভ্যারিয়েন্টের ওপর আংশিকভাবে কার্যকর, তবে তা নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ড. মেহেদী আকরাম বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো এই ভ্যারিয়েন্টগুলো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টগুলো কমিউনিটিতে কী পরিমাণ ছড়িয়েছে, তা জানাটা খুবই জরুরি। কমিউনিটিতে যদি মিউটেশন সার্ভেইল্যান্স না হয়, তবে সেটি জানা যাবে না। বর্তমানে যেভাবে দেশে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তাতে অনুমান করা যায় যে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টের সব খারাপ দিকগুলোই কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে দেখা যাচ্ছে— এই ভ্যারিয়েন্টে যারা সিভিয়ার কোভিডে আক্রান্ত হয়, অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের তুলনায় তাদের মৃত্যুর হার ৬১ শতাংশ বেশি। প্রায় ১১৪টি দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার যে ভ্যারিয়েন্ট, সেটি একটু ভিন্ন। এক্ষেত্রে বিস্তার অতটা না হলেও এটি যদি একবার প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তবে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা দেখা দেবে।

কিভাবে এই ভ্যারিয়েন্ট বিস্তারের তথ্য জানা যাবে— জানতে চাইলে ড. মেহেদী আকরাম সার্ভেইল্যান্সের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে থ্রি-জিন আরটি-পিসিআর দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন, যা দিয়ে কমিউনিটি সার্ভেইল্যান্স খুবই সহজ ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। এভাবে কিন্তু যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সার্ভেইল্যান্স করা হয়েছে। এই থ্রি-জিন আরটি-পিসিআর কিট যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্ট ডিটেক্ট করতে পারে। এই পদ্ধতিতে বাংলাদেশেরও কমিউনিটি সার্ভেইল্যান্স করা প্রয়োজন, যেটি সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে বড় পরিসরে কখনোই সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক ডা. শাহরিয়ার রোজেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস একটি m-RNA ভাইরাস। আরে মিউটেশনও স্বাভাবিক। এসব মিউটেশনের অধিকাংশই উদ্বেগের কারণ না হলেও যখন স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন হয় এবং ভাইরাসের চরিত্রগত পরিবর্তন হয়, তখন সেটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। করোনাভাইরাসের এমন বিপৎজনক ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে। এগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টগুলোই সবচেয়ে মারাত্মক, যেগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।

তিনি বলেন, ইউরোপজুড়ে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা এই যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টের। হঠাৎ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, কম বয়স্কদের মাঝে আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া, গুরুতর রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া— এগুলো এই ভ্যারিয়েন্টের কারণে হতে পারে। বাংলাদেশেও এরকম ঘটনাগুলোর উপস্থিতি আমাদের শঙ্কিত করে তোলে। এসব ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষজনের অনীহা— দু’টি বিষয়ই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করি। এর মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনটি কার্যকর। কাজেই সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ডা. রোজেন আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্টটি অত্যন্ত বিপদজনক। কারণ সম্প্রতি একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল থেকে জানা গেছে যে এর বিপক্ষে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন তেমন কার্যকর নয়। ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টের বিপক্ষে ভ্যাকসিন কার্যকর হলেও এটি নিয়েও অনেক সংশয় রয়েছে। ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টটি আগে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত করতে পারে। এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর সবগুলোই কিন্তু অনেক দেশেই ছড়িয়ে গেছে। তাই বিদেশ থেকে যাত্রীদের আসার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে। যেসব দেশে এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর উপস্থিতি আছে, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। তা না করতে পারলেও যারা আসবেন, তাদের কঠোরভাবে কোয়ারেনটাইন করানো অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ও করোনা বিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রোবেদ আমিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে বিসিএসআইআর-এর পক্ষ থেকেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad