Ad

বিজ্ঞাপন

সংক্রমণের শীর্ষে মৌলভীবাজার, নেই পিসিআর ল্যাব

April 11, 2021 | 8:49 am

হৃদয় দেবনাথ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

মৌলভীবাজার:দ্বিতীয় দফায় দেশে করোনা সংক্রমণের উচ্চ হারের জন্য যেসব জেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে সেই ২৯ জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মৌলভীবাজার। প্রবাসী অধ্যুষিত জেলাটিতে করোনা সংক্রমণের হার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে ওঠা নামা করছে।

Ad

বিজ্ঞাপন

জেলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে করোনা পরীক্ষার হার। করোনার সংক্রমণের শীর্ষে থাকলেও এখানে নেই কোনো করোনা টেস্টের ল্যাবরেটরি। বাধ্য হয়ে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা, সিলেট পাঠাতে হয়। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার ফল আসতে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন লাগে। বিভিন্ন সময় ৬২৫টি নমুনা নষ্ট হওয়ারও তথ্য রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬২৮টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা এবং সিলেটের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে পজিটিভ এসেছে দুই হাজার ১১০টি এবং নেগেটিভ এসেছে ১০ হাজার ৬৬৫টি নমুনা পরীক্ষার ফল। ফলোআপ টেস্টেও ১৩০ নমুনার ফল পজিটিভ এসেছে। নষ্ট হয়েছে ৬২৫ নমুনা। এখনো ৯৮ নমুনার ফল আসেনি। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ১৬০ জন। তার মধ্যে তিনজন হাসপাতালে, বাকিরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪ জন।

Ad

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মনসুর আহমেদ নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সারাবাংলাকে জানান, পর্যটনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও মৌলভীবাজারে টেস্টের ব্যবস্থা না করায় করোনা পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের ১৮ জুন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দিয়েছিলেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন। এর আগে, তৎকালীন সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য অধিদফতরে ল্যাব স্থাপনের জন্য আবেদন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নমুনা সংগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সারাবাংলাকে বলছেন, নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট বা ঢাকা পাঠাতে হয়। ফলে অনেক সময় সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নমুনা রাস্তায়ই নষ্ট হয়ে যায়। আর নমুনা নষ্ট হলে পরীক্ষার ফল ভুল আসার সম্ভাবনা থাকে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ সারাবাংলাকে জানান, আইইডিসিআরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে করোনা সংক্রমণে শীর্ষে আছে মৌলভীবাজার। স্থানীয়ভাবে হাসপাতালে যে জিন এক্সপার্ট মেশিন আছে সেটা ব্যবহার করে এখানে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত অফিশিয়াল কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। প্রশিক্ষণের কাজও দ্রুত শেষ হবে।

তিনি বলেন, জেলার একমাত্র জুড়ী ছাড়া প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালেও এই জিন এক্সপার্ট মেশিন আছে। এটা দিয়ে সাধারণত যক্ষার টেস্ট করা হতো।

তবে পিসিআর ল্যব চালুর কোনো প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন । তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট পিসিআর ল্যাবের দাবি জানিয়েছেন।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad