Ad

বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হলেও ঝুঁকি কম

April 20, 2021 | 9:00 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তিদের মাঝে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হলেও তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক কম। আক্রান্তদের মাঝে ৮২.৫ শতাংশ রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়নি। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর আক্রান্ত হওয়া ১৭.৫ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে কোনো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি পরিলক্ষিত হয়নি।

Ad

বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশের শ্বাসকষ্ট হয়নি এবং অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়েনি। বয়স্ক ও কো-মরবিডিটির কারণে কিছুসংখ্যক রোগীর শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়েছে। আর ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে মাত্র একজনের।

কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত ২০০ জনের ওপর ওই গবেষণা করা হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই গবেষণা চালানো হয়। যাদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়, তারা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছিলেন।

Ad

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) এক গবেষণায় দেখা এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া করোনা আক্রান্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে করা একটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ।

গবেষক দলের প্রধান হিসেবে সিভাসুর এই উপাচার্য বলেন, ‘গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর করোনা আক্রান্ত হলেও মৃত্যুঝুঁকি কমে আসে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর আক্রান্ত ২০০ জনের মধ্যে মাত্র একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হার ০.৫ শতাংশ। মৃত ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। এছাড়া তার বিভিন্ন রোগ ছিল। আক্রান্ত হওয়ার পর তার আইসিইউর প্রয়োজন হয়েছিল।’

তবে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া অন্যরা ভালো আছেন বলে জানান অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
সিভাসু কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষাগারে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ১৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫২ জনের (সাড়ে ২৮ শতাংশ) করোনা পজিটিভ হয়। এর মধ্যে ২০০ জন ছিলেন ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণকারী।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে বয়স ও লিঙ্গভেদে ১২৯ (৬৪.৫ শতাংশ) জন আগে বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। যার মধ্যে ৩৬ জন উচ্চ রক্তচাপ, ৩২ জন ডায়াবেটিস ও ৫ জনের অ্যালার্জি ছিল। ৫১ জন ছিলেন একাধিক রোগে আক্রান্ত।

করোনা আক্রান্ত ৭৫২ জনের মধ্যে ২০০ জন ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেন। তাদের মধ্যে ১৬৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়নি। এই হার ৮২.৫ শতাংশ। মাত্র ৩৫ জন রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এই হার ১৭.৫ শতাংশ। তবে তাদের মধ্যে কোনো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি লক্ষ্য করা যায়নি।

গবেষণা ফল হিসেবে জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপসর্গ হলো শ্বাসকষ্ট। এই শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে অধিকাংশ রোগীর মৃত্যু ঘটে। তবে এই গবেষণায় দেখা যায়, করোনা ভ্যাকসিন নেওয়াদের মধ্যে ১৭৭ জনের কোনো শ্বাসকষ্ট পরিলক্ষিত হয়নি। এই হার ৮৮.৫ শতাংশ। একই সঙ্গে ১৮৪ জন রোগীর জন্য অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন হয়নি। এই হার ৯২ শতাংশ।

তবে বয়সের তারতম্য, বার্ধক্যজনিত কারণ ও বিভিন্ন কো-মরবিডিটির কারণে মাত্র ৮ শতাংশ রোগীর শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের প্রাথমিক উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, হাঁচি ও কাশি। গবেষণায় দেখা যায়, প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর লিঙ্গভেদে পুরুষ ৪৪.৫ শতাংশ এবং ৯১ শতাংশ নারীর মধ্যে কোনো ধরনের কাশি ও হাঁচি পরিলক্ষিত হয়নি।

একই সঙ্গে ৫৬.৫ শতাংশ পুরুষ ও ৫৫.৫ জন নারী রোগীর যথাক্রমে স্বাদ ও ঘ্রাণে কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি বলে জানানো হয়েছে গবেষণায়।

গবেষণার ইতিবাচক দিক হচ্ছে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর আক্রান্ত ২০০ রোগীর মধ্যে মাত্র একজনের আইসিইউতে ভর্তির প্রয়োজন হয়। ছয় দিন পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত ওই ব্যক্তির দুই বছর আগে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, আক্রান্তদের মধ্যে ১৯০ জন নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। বাকি ৯ জনের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তারা বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন বলে জানানো হয়েছে গবেষণায়।

এতে দেখা যায়, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর আক্রান্তদের মধ্যে যাদের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, তা গড়ে পাঁচ দিনের বেশি পরিলক্ষিত হয়নি। তাদের সর্বনিম্ন অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৯০ শতাংশ। সবার গড় স্যাচুরেশন ছিল ৯৬.৮ শতাংশ। তবে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা ভ্যাকসিন নেননি, তাদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৮৫ শতাংশ বা তার কম। যা আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের অধিকাংশ টিকা নেওয়ার গড়ে ৩২ দিন পর আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের শরীরের গড় তাপমাত্রা ছিল ১০১ডিগ্রি। লিঙ্গ ও বয়সভেদে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯৯ডিগ্রি থেকে ১০৪ ডিগ্রি।

গবেষক দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন- অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রানেশ দত্ত, ডা. সিরাজুল ইসলাম এবং ডা. তানভীর আহমদ নিজামী।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad