Ad

বিজ্ঞাপন

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় আর্টিকেল নাইটিনের নিন্দা

April 22, 2021 | 5:19 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর চালানো পুলিশের গুলিতে ৫ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।

Ad

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটি বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের গুলির ঘটনা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, আর্টিকেল নাইনটিন শ্রমিকদের তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার জন্য পুলিশ বাহিনী কর্তৃক এ জাতীয় অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করছে।

Ad

বিজ্ঞাপন

ফারুখ ফয়সল আরও বলেন, আমাদের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ সংবিধান প্রদত্ত এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের, কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি এর উল্টো প্রবণতা।

শ্রমিকরা দাবি করেছেন যে, তারা ভালো কর্ম পরিবেশ, ঈদ বোনাস, রোজার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্ম ঘণ্টা নির্ধারণ, কাজের সময় পর্যাপ্ত বিরতি, অন্যায় ছাঁটাই বন্ধ করা ইত্যাদি দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছিলেন যেখানে পুলিশ বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর গুলি চালানো শুরু করে। এতে ৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।

কোভিড-১৯ মহামারি অব্যাহত থাকায় শ্রমজীবী ও দৈনন্দিন বেতনে কাজ করা শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি না পরিশোধ করা বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং মৌলিক মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। এস আলম গ্রুপ বিশেষত এইরকম কঠিন সময়ে তাদের কর্মীদের বেতন ঠিক ভাবে দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এস আলম গ্রপকে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথ ভাবে মেনে চলতে হবে।

পুলিশ রেগুলেশন, ১৯৪৩ অনুসারে যে কোনো গণতান্ত্রিক সমাবেশে পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সর্বশেষ উপায় হিসেবে ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে। এই শক্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্য হবে সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া এবং কোনো পরিস্থিতিতেই কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তা করা উচিত নয়।

বাঁশখালীর ঘটনায় দেখা যায়, পুলিশ আইনটি অনুসরণ করেনি এবং ন্যূনতম সংযম ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে সে সময় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ফারুখ ফয়সল বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার নাগরিক স্বাধীনতা এবং তা সরকারের জবাবদিহিতাকে নিশ্চিত করে। সরকারকে পুলিশের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতার এবং ৫ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে হবে।

আর্টিকেল নাইনটিন সরকারকে সংবিধান স্বীকৃত নাগরিকের সভা সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকার চর্চায় বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

Ad

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad