Ad

বিজ্ঞাপন

হেফাজতের তাণ্ডবের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকারিয়া: পুলিশ

May 6, 2021 | 6:06 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনার কমপক্ষে ১০ জন ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে চট্টগ্রামে গ্রেফতার হওয়া হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জী একজন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশে হেফাজত এই তাণ্ডব চালালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এত দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সেটি তাদের ধারণায় ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Ad

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক।

এর আগে, বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের একটি দল কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে। তার বাবা নোমান ফয়জী হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। গত ২২ মার্চ তিনি মারা যান।

Ad

বিজ্ঞাপন

জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে বৃহস্পতিবার হাটহাজারী থানায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দশদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত পাঁচদিন মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেফতারের পর জাকারিয়া নোমান ফয়জীর কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসা পুলিশ সুপার রশিদুল বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া নোমান ফয়জী হাটহাজারীতে যেসকল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, থানা ভাঙচুর, ডাকবাংলো ভাঙচুর, ভূমি অফিসে আগুন দেওয়াসহ যেসব ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে- প্রত্যেকটিতেই তার সম্পৃক্ততার কথা আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।’

‘এসব ঘটনায় ২-৪-৫-১০ জন যারা মাস্টারমাইন্ড ছিল, তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া নোমান ফয়জী। তাদের ইন্ধনে, তাদের নির্দেশে, তাদের অর্থের যোগানে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে, প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তিনি (জাকারিয়া) নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। যেহেতু তিনি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক, ‍হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাজত কর্তৃক যেসব ফৌজদারি অপরাধ সম্পৃক্ত হয়েছে, কমবেশি প্রত্যেকটি ঘটনায় কোথাও কোথাও তার সম্পৃক্ততা ছিল, কোথাও কোথাও তার নির্দেশ ছিল, কোথাও কোথাও তার ইন্ধন ছিল। আমরা তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত তথ্য আমরা পাব।’

অর্থের যোগানদাতা কারও পরিচয় পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অর্থের যোগানদাতা কারা সেটা আমরা তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করার চেষ্টা করব।’

হাটহাজারী থানায় দায়ের হওয়া সব মামলার ঘটনার সঙ্গে জাকারিয়া নোমান ফয়জী তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন, এমন দাবি পুলিশ সুপারের।

হেফাজতের তাণ্ডবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী ছিল, জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে যা পেয়েছি, তাদের তাণ্ডবের উদ্দেশ্য ছিল- পুরো বাংলাদেশ এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করে ফেলা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে এত দ্রুত, এত সুন্দরভাবে বিষয়টা মোকাবিলা করে ফেলবে, এটি তাদের ধারণা ছিল না। তাদের ধারণা ছিল, এভাবে মনে হয় অনেককিছু করে ফেলা সম্ভব।’

তাণ্ডবের আগে গোয়েন্দা তথ্য এবং পুলিশের ভূমিকার কোনো ঘাটতি ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কোনো ব্যর্থতা ছিল না। ঘটনা যা হয়েছে, পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই মোকাবিলা করেছে এবং সুন্দরভাবে মোকাবিলা করেছে।’

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী তাণ্ডবের সাথে জড়িত কি না- এমন প্রশ্নের কোনো জবাব পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক। তবে তিনি বলেছেন, ‘তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন গত ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় ভাংচুর, স্থানীয় ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগসহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত হয় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ গুলি ছুড়লে হেফাজতে ইসলামের চার কর্মী নিহত হন। এর জেরে তিনদিন ধরে হাটহাজারী থানার অদূরে হেফাজতের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে ইটের দেওয়াল তুলে অবরোধ তৈরি করে রাখে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। একই ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় প্রথমে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়, যাতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। গত ২২ এপ্রিল আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে দু’টিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীকে। অপর মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলালসহ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের পর থেকে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক হারুন ইজাহারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষপর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় গত ২৫ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে আকস্মিকভাবে জুনায়েদ বাবুনগরী ফেসবুকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। আবার এ ঘোষণার রেশ না কাটতেই রাত সাড়ে তিনটার দিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ফেসবুক পেইজ থেকে তিন সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠনের কথাও প্রচার করা হয়। পরে আরও দুজনকে সদস্য হিসেবে সংযুক্ত করার কথাও জানানো হয়।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad