Ad

বিজ্ঞাপন

অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত হেফাজত নেতা বললেন— মানুষেরই ভুল হয়

May 6, 2021 | 6:26 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারির পর প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জীরও একই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া নোমান ফয়জী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন। বলেছেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে।’

Ad

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ মে) নগরীর নাসিরাবাদে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক হেফাজত নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি মোবাইলে এ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন।

এর আগে, বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের একটি দল কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে। তার বাবা নোমান ফয়জী হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। গত ২২ মার্চ তিনি মারা যান।

Ad

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- হেফাজতের তাণ্ডবের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকারিয়া: পুলিশ

জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে বৃহস্পতিবার হাটহাজারী থানায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেফতারের সময় জাকারিয়া নোমান ফয়জীর কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধারের তথ্য দিয়ে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তিনি (জাকারিয়া নোমান) বিবাহিত। কিন্তু মোবাইল সেটের সূত্র ধরে আমরা জানতে পারি— একাধিক নারীর সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আমরা এ বিষয়ে আগেই অবগত ছিলাম। মোবাইলে এর প্রমাণ পেয়েছি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন, একাধিক মহিলার সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং বিবাহ বহিভূত শারীরিক সম্পর্ক— দু’টোই ছিল।’

মোবাইলে মেসেঞ্জারে একাধিক নারীর সঙ্গে ‘অনৈতিক’ কথোপথনের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বেশকিছু চ্যাটিং পেয়েছি, যাদের সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আমাদের হাতে সেগুলো আছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা সেগুলো এখন প্রকাশ করব না। এই নারীদের সঙ্গে যে তার যোগাযোগ ছিল এবং অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, সেগুলো এই চ্যাটিংয়ে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি নিজেও আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য আমরা বের করব এবং মামলার তদন্তের সঙ্গে এগুলো সংযুক্ত করব।’

‘আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বলেছি যে, আপনাদের (হেফাজতে ইসলাম) যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বা আপনি যে বেশভূষা নিয়ে চলেন, তার সঙ্গে আপনার এই চরিত্র সাংঘর্ষিক কি না, সেটার সাথে মেলে কি না? তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, মানুষ মাত্রেরই ভুল হয়,’— বলেন পুলিশ সুপার।

কত জনের সঙ্গে জাকারিয়া নোমান ফয়জী অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ‍দুই-তিন জনকে শনাক্ত করেছি, তাদের পরিচয় পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা এখন এগুলো বলতে চাচ্ছি না। তদন্ত যখন এগিয়ে যাবে, আমাদের তদন্ত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে অনুযায়ী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা সব ধরনের সঠিক তথ্য সরবরাহ করব। এখন শুধু এটুকু বলছি যে কারও কারও সঙ্গে তার অনৈতিক মনস্তাত্বিক সম্পর্ক ছিল, কারও কারও সঙ্গে তার অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি কিন্তু বিয়ে করেছেন, এরপরও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক— এটাও একটা ক্রিমিনাল অফেন্স।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়।

এর মধ্যেই গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। স্থানীয়দের অভিযোগ, রিসোর্টে মামুনুলের সঙ্গে যে নারী (জান্নাত আরা ঝর্ণা) ছিলেন, তার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত তিনি। তবে মামুনুল ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। ওইদিন তাকে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্ট ভেঙে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার দিন সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মী‌দের আসামি করে তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় মামুনুল হক প্রধান আসামি। মামলা দায়েরের পর মামুনুল বেশ কিছুদিন পালিয়ে বেড়ালেও গত ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানায় গত বছর দায়ের করা এক মামলায় বর্তমানে রিমান্ডে আছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক নেই। কয়েকটি শর্ত দিয়ে চুক্তিভিত্তিক একটি সম্পর্ক রেখেছেন তিনি।

এর মধ্যে আবার ৩ এপ্রিলের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। তার বাবা ও ছেলে ‍দু’জনেই তার সন্ধান চেয়ে আলাদা আলাদাভাবে থানায় জিডি করেছিলেন। পরে ২৯ এপ্রিল তাকে খুঁজে বের করে পুলিশ। পরদিন ৩০ এপ্রিল কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad