Ad

বিজ্ঞাপন

করোনাকালিন দুঃসময়ে ‘সঙ্গী হোক সুর’

May 6, 2021 | 7:03 pm

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক

সারা পৃথিবী জুড়ে করোনার বাড় বাড়ন্তে যেন তৈরি হয়েছে এক অন্ধকারময় পরিস্থিতি। আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা বহু মানুষকে একটা দমবন্ধকর আবহে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এভাবেই তো চলতে পারে না। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে এবং সুস্থ থাকতে অবলম্বন করা হলো সংগীতের। কারণ, মানুষের মনের ভিতরে প্রবেশ করার ক্ষমতা রয়েছে সংগীতের। আর তার মাধ্যমেই অবসাদের অন্ধকারকে দূর করে আশার আলো দেখানো সম্ভব। বিশেষ করে এই করোনাকালিন পরিস্থিতিতে। তাই কঠিন এই সময়ের সঙ্গে লড়াইয়ে ‘মিউজিক থেরাপি’-কেই হাতিয়ার করেছেন সংগীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র। আর সেই তাগিদেই শুরু করেছেন ‘সঙ্গী হোক সুর’ নামে একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠান।

Ad

বিজ্ঞাপন
দেবজ্যোতি মিশ্র
দেবজ্যোতি মিশ্র

Ad

বিজ্ঞাপন

দেবজ্যোতি মিশ্র- সুরের দুনিয়ায় এই নামটাই যথেষ্ট। বাংলা, হিন্দি ছবির গানের দুনিয়ায় তার অনায়াস গতিবিধি। হিন্দি ছবি ‘রেইনকোট’ থেকে শুরু করে ওপারবাংলার ‘দহন’, ‘চোখের বালি’, ‘বাড়িওয়ালী’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘ইতি মৃণালিনী’ সহ অসংখ্য ছবির সংগীত পরিচালক তিনি। সংগীত পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশেরও দুইটি বিখ্যাত ছবি- ‘আহা’ এবং ‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’-এর। একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার সহ নানা সম্মানে সম্মানিত এই গুণী শিল্পী আয়োজন করেছেন এমন একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের।

প্রতি মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যে সাড়ে ৭টায় শুরু হয় এই ভারচুয়াল অনুষ্ঠানের। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জুম কলের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে দিচ্ছেন যাতে যে কেউ ইচ্ছে করলেও এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। কিছুক্ষণের জন্য যাবতীয় যন্ত্রণা ভুলে সুরের আশ্রয়ে থাকতে পারেন। এমন কি গানের পাশাপাশি নানা বিষয় নিয়ে চর্চাও করা যাবে এই আড্ডায়।

দেবজ্যোতি মিশ্রর ফেসবুক পোস্ট
দেবজ্যোতি মিশ্রর ফেসবুক পোস্ট

নিজের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেবজ্যোতি মিশ্র বলেন, ‘সংগীত নিয়ে চর্চার পাশাপাশি বিজ্ঞান নিয়েও চর্চা আমার বহু দিনের। এই যে আমরা বলি মিউজিকের একটা হিলিং পাওয়ার আছে। আমি বলি মিউজিকের ইমিউনিটি পাওয়ার আছে। আমার মনে হচ্ছিল পৃথিবী এখন আমার কাছে এখন একটা নতুন গান চায় না। তার থেকেও সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারাটা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। গত বছরে শ্রমজীবী ক্যান্টিন যথেষ্ট ভাল কাজ করেছে। খুব ভাল সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে মনে হচ্ছিল আমি নিজে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সমাজকে কী দিতে পারি। সেই থেকেই সুরের আশ্রয় নেওয়া।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও যুদ্ধবিধ্বস্ত পোল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে দেবজ্যোতি মিশ্র বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও যুদ্ধবিধ্বস্ত পোল্যান্ডের ওয়ারশ শহরে একদল ইহুদি ছেলেমেয়েকে সামিল করে রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকঘর’ নাটকটি অভিনীত হয়। নাৎসি অধিগৃহীত পোল্যান্ডে ‘ডাকঘর’ নাটকের উপস্থাপনা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো অনাথ শিশুদের জীবনমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিল। গানের, সুরের এই ক্ষমতা আমাদের এই যাত্রাপথের পাথেয়।”

দেবজ্যোতি মিশ্র
দেবজ্যোতি মিশ্র

সংগীতের ইমিউনিটি পাওয়ার সম্পর্কে বলতে গিয়ে বললেন, “অনেকেই মনে করেন মন খারাপের সময় করুণ রাগ শোনা ঠিক নয়। আমার মনে হয় যেকোনো সুরের মনের ওপর প্রভাব ফেলার ক্ষমতা আছে। ঠিক যেমন একটা ঔষধ হিসেবেই কাজ করে। মনে ভাল থাকার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। কিছু ডাক্তারের কাছে শুনেছি তারা আমার করা ‘টেগোর অন স্ট্রিংস’ অপারেশনের সময়ে চালিয়ে রাখেন। এর থেকেই সংগীতের ইমিউনিটি পাওয়ারের দিকটা বোঝা যায়।”

‘সঙ্গী হোক সুর’ নামের এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি লিংক ও পাসওয়ার্ড পাওয়া যাবে দেবজ্যোতি মিশ্রর ফেসবুক আইডি- https://www.facebook.com/DebojyotiMusic -এ।

সারাবাংলা/এএসজি

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad