Ad

বিজ্ঞাপন

শিশুদের নজরুল

May 25, 2021 | 6:09 pm

শিশুদের নজরুল

ছোট্ট পরি অঞ্জলি। প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ায় এ আঙিনা থেকে ও আঙিনা। আপন মনে ছুটে চলে। একদিন অঞ্জলি পেয়ারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ঠোঁট বাকিয়ে, হাত নেড়ে নেড়ে কার সঙ্গে যেন কথা বলতে থাকে। বারান্দায় বসে নজরুল শিশুটির কর্মকাণ্ড দেখে অভিভূত হয়। যেন এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য। নজরুল ভাবে মেয়েটি হয়তো গাছে থাকা কারও কাছে পেয়ারা চাইছে। কিন্তু কোথায়? কেউ তো তাকে পেয়ারা দিচ্ছে না। তাই সে মেয়েটির কাছে যায়। মনে মনে ভাবে, গাছে থাকা ছেলেটি যদি মেয়েটিকে পেয়ারা না দেয় সে নিজে পেয়ারা পেড়ে দেবে।

Ad

বিজ্ঞাপন

কিন্তু মেয়েটির কাছে গিয়ে অবাক হয়। কেউ তো নেই। সে অঞ্জলিকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কার সঙ্গে কথা বলছিলে? তারপর অঞ্জলি যা বলে তা সত্যি অবাক করা, কাকাবাবু! ওই দেখ দুষ্টু কাঠবেড়ালী। রোজ রোজ দুষ্টুটা পেয়ারা খেয়ে পালিয়ে যায়। আমাকে একটাও দেয় না। নজরুল চমকে ওঠে। আর এ চমক থেকেই সৃষ্টি হয় নজরুলের কালজয়ী শিশুতোষ ছড়া ‘খুকী ও কাঠবেড়ালী’

‘কাঠবেড়ালী! কাঠবেড়ালী! পেয়ারা তুমি খাও?/ গুড়-মুড়ি খাও! দুধ-ভাত খাও? বাতাবি লেবু? লাউ?...’

Ad

বিজ্ঞাপন

এভাবেই শিশুদের আবেগকে ছন্দে বেঁধেছেন চির শিশু কবি নজরুল। তার কবিতায় উঠে এসেছে শিশুদের সকল মধুর সম্পর্ক। তিনি শিশুদের মন বুঝতেন। তাঁর মত শিশু মনের খোরাক মেটাতে পেরেছেন বাংলা সাহিত্যের খুব কম কবিই। ছোটদের পাঠ্যবইয়ের লেখক আলী আকবর সাহেব একদিন তাঁর পাণ্ডুলিপি কবিকে দেখিয়ে মতামত জানতে চাইলেন। কবি তাঁর স্বভাব সুলভ ভঙ্গিমায় পাণ্ডুলিপি পড়ে বললেন, আপনার পাণ্ডুলিপির ছড়াগুলো ছোটদের উপযোগী হয়নি। যদি বলেন তো আমি একটা ছড়া লিখে দিতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি অনুরোধ করলেন নজরুলকে একটি ছড়া লিখে দেওয়ার জন্য। তখন নজরুল লিখলেন তাঁর বিখ্যাত ‘লিচু চোর’ কবিতা।

‘বাবুদের তালপুকুরে/হাবুদের ডালকুকুরে/সেকি ব্যস করল তাড়া/বলি, থাম-একটু দাঁড়া...’

কবি নজরুল তাঁর কবিতায় অত্যন্ত সহজ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালির দাদু-নাতীর সম্পর্ক। সে দারুণ এক দুষ্টু মিষ্টি সম্পর্ক। আমরা এর প্রমাণ খুঁজে পাই তাঁর ‘খাঁদু-দাদু’ কবিতায়। সেখানে নানার নাতি তার মাকে বলছে--

অমা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং?
খাঁদা নাকে নাচছে ন্যাদা নাক ড্যাঙা ড্যাং ড্যাং।
.............................
ওঁর খ্যাদা নাকের ছেঁদা দিয়ে টুকি কে দেয় ‘টু’।
ছোড়দি বলে সর্দি ওটা, এরাম! ওয়াক থুঃ।
কাছিম যেন উপুর হয়ে ছাড়িয়ে আছেন ঠ্যাং।
অমা! আমি হেসেই মরি, নাক ড্যাঙা ড্যাং ড্যাং

মায়ের সাথে শিশুর সম্পর্কও কবির কবিতা থেকে বাদ যায় নি। মা যেমন শিশুকে গান গেয়ে ঘুম পাড়ায় আবার গান শুনিয়ে ঘুম ভাঙায়। কোন বিষয়ই কবির কবিতা থেকে বাদ যায়নি।
শিশুদের ঘুম পাড়ানোর জন্য কবি লিখেছেন—

ঘুমপাড়ানী মাসী পিসি ঘুম দিয়ে যেও
বাটা ভরে পান দেব গাল ভরে খেয়ো।

আবার ঘুম ভাঙানি গানও কবির লেখা থেকে বাদ যায়নি। কবি লিখেছেন—

ভোর হল দোর খোল
খুকুমণি ওঠরে
ঐ ডাকে যুঁই শাঁখে
ফুলখুকী ছোটরে।

শিশুদের মন প্রকৃতির মতো স্বচ্ছল। তাই প্রকৃতিও কবির শিশুতোষ কবিতা থেকে বাদ যায়নি।
তিনি প্রকৃতির সবচে সাদামাটা বিষয় নিয়ে লিখেও শিশুমনের খোরাক জুগিয়েছেন। আমারা এর প্রমান পাই কবির ‘ঝিঙেফুল’ কবিতায়। কবি লিখেছেন—

‘ঝিঙেফুল ঝিঙেফুল
সবুজপাতার দেশে ফিরোজিয়া
ঝিঙেফুল ঝিঙেফুল!’

এমন অসংখ্য কবিতায়, গানে, গল্পে কবি শিশু মনের দুলুনি দুলিয়েছেন। তাই তিনি শিশু মনে চির ভাস্বর, চির জাগ্রত। শিশু মনের পরান কুসুমে তিনি পূজিত।

Ad

বিজ্ঞাপন

Tags:

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad