Ad

বিজ্ঞাপন

শাহ আবদুল হান্নানকে নিয়ে সেই সততার বয়ানের একটি ব্যবচ্ছেদ

June 9, 2021 | 9:45 pm

নুরুল আলম পাঠান মিলন

গত ২ জুন শাহ আবদুল হান্নান ইন্তেকাল করেছেন। তার সকল পাপাচার থেকে মুক্তি দিয়ে সৃষ্টিকর্তা তাকে জান্নাত দান করুন।

Ad

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। তার মৃত্যুর পরে তার সততা, দক্ষতা ইত্যাদি নিয়ে বেশ শোরগোল বাঁধিয়েছে তার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি ও মিডিয়া। আমার এই লেখাটিও সেসবেরই ধারাবাহিকতা। আমি যেকোনো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে দেখি, মূল্যায়ন করি। পাঠককেও এটা বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ রাখছি।

সততা বিষয়টি কী? এটা কি চরিত্রের মতো নারীঘটিত বা পুরুষঘটিত বিষয় কেবল? না, এরকম নয়। আর্থিক, চারিত্রিক, রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, দায়িত্বজ্ঞান এরকম সকল ক্ষেত্রেই সৎ হলে তবেই সেটার মার্কেটিং করে বলা যায় যে ব্যক্তি সৎ। শাহ আব্দুল হান্নান এসবের মধ্যে কী কী বিষয়ে সৎ ছিলেন?

Ad

বিজ্ঞাপন

শাহ আবদুল হান্নান ঢাকা কলেজে ১৯৬২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষকতায় যোগ দেন। অধ্যাপনা ছেড়ে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ফিন্যান্স সার্ভিস ক্যাডারে যোগদান করেন। এরপরে আশির দশকের বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামে শুল্ক বিভাগের ডেপুটি কালেকটর, কাস্টমস কালেকটরের পাশাপাশি কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের প্রধান, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস), এরশাদ আমলের শেষ দিকে রাজস্ব আহরণে নতুন শুল্কব্যবস্থা প্রবর্তনের ব্যাপারে গঠিত ভ্যাট সেলের প্রধান, নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে তিনি ১৯৯৮ সালে অবসরে যান।

১৯৯৬-২০০১ সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘পেছন ফিরে দেখা’র ১৯০তম পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘রাজস্ব বিভাগের সচিবের পদে উপযুক্ত অফিসার পেতে আমাকে বেগ পেতে হয়েছে। প্রথম বছরে ড. সা’দত এই পদে ছিলেন। তার মধ্যে ওই পদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মতৎপরতা ও গতিশীলতা আমি লক্ষ্য করিনি। তার স্থলে আমি শাহ আবদুল হান্নানকে নিযুক্ত করলাম। তিনি জামাতপন্থী ছিলেন কিন্তু সৎ ব্যক্তি হিসেবে তার সুনাম ছিল। তার দক্ষতার মান আমাকে সন্তুষ্ট করেনি’। যারা শাহ আবদুল হান্নানকে নিয়ে লিখেছেন এবং তিনি নিজে; তাদের যে কারো চেয়ে শাহ এ এম এস কিবরিয়া’র কথাকে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।

শাহ আবদুল হান্নান ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নয়া দিগন্তের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন বোর্ড চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন মীর কাসেম আলীর উত্তরসূরি। ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডসহ প্রায় সকল জামাতি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার লেখালেখি, কথা ও কাজ সকল কিছুর কেন্দ্রে ছিল জামাতি রাজনৈতিক মতাদর্শ।

মারা যাওয়ার পরে প্রথম আলোতে সাবেক সচিব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রয়াতের সততার ফিরিস্তি নিয়ে একটি ফন্দি এঁটেছেন। জনাব খান সাহেব ১৯৭৯ সালে নিজে শুল্ক ও আবগারি বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। লোকে দেখলাম গোগ্রাসে গিলছেও। সাংবাদিক গাজী নাসিরুদ্দিন খোকন ভাইয়ের এক স্ট্যাটাসে আহমেদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী নামের একজন জানাচ্ছেন, ফাওজুল কবির খান চট্টগ্রামের শাহিন ফৌজ, ফুলকুঁড়ির আসর, ইসলামি সংঘ— শিবির, জামাত করা লোক। একাত্তরে চট্টগ্রামে ইসলামি সংঘের প্রধান নেতা ছিলেন মীর কাসেম আলী। একাত্তরের ঘাতক, চট্টগ্রামের বদর বাহিনীর প্রধান মীর কাসেমকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। সেই ছাত্র সংঘ ও শিবিরের কর্মী-নেতা ফাওজুল কবীর খান দিচ্ছেন সততার বয়ান। শিশু কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর এবং অঙ্গীকার সাহিত্য পত্রিকা যার উপদেষ্টা ছিলেন কবি আল মাহমুদ; এসবের সঙ্গে শাহ আবদুল হান্নান সাহেবেরও সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা ছিল। আরেকটি বিষয় হলো—মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ১/১১-এর সরকারের বদৌলতে চুক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়েছিলেন। বিদেশ থেকে এনে তাকে সচিব বানানো হয়েছিল। যেমন করে নিয়োগ দিয়েছিল পঁচাত্তরের পরে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। তখন মুখ্যসচিব পদে এস এম শফিউল আজম, বিমানবাহিনী প্রধান পদে এমজি তাওয়াব, পররাষ্ট্র সচিব পদে তবারক হোসেনকে বিদেশ থেকে ধরে এনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান কি এদেরই উত্তরসূরি ছিলেন?

এই প্রসঙ্গে জামাতি প্রতিষ্ঠান দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সাংবাদিক মাসুম খলিলীর লেখা থেকে কোট করছি, ‘শাহ আবদুল হান্নান সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মনে হয়েছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সততার ব্যাপারে সামান্যতম আপসও করেননি। তবে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নের ব্যাপারে এর সাথে সাংঘর্ষিক কিছু মনে হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। এরপর যে সিদ্ধান্ত আসত তা নিজের মনঃপূত না হলেও বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতেন না। ফলে কোনো সরকারের সময় দায়িত্ব পালনে শাহ আব্দুল হান্নানের বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়নি’।

এই লেখাতে শাহ আবদুল হান্নান সততা কিংবা নীতির প্রশ্নে আপসহীনতার ব্যপারে কিন্তু কিছু নেই। তিনি আপসকামী ছিলেন, অনুগত ছিলেন এবং নির্দেশ পালনে স্থিরপ্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি বড়জোর একজন পেশাদার আমলা। সকল পাত্রেই এমিবার মতো বিচরণ ও অবস্থান করতে পারতেন। এখানে সততার কী পেয়েছেন জনাব ফাওজুল কবীর খান তা বোধগম্য নয়। এমনকি শাহ সাহেব তো ড. আকবর আলী খানের মতো ফাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা অমুকের নির্দেশে স্বাক্ষর করে অনুমোদিত হলো বা দায়িত্ব প্রতিপালিত হলো, এমন কিছুও করেননি।

উত্তর গোড়ান নিবাসী সচিবের কথা শিরোনামে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান লিখেছেন, ‘অনেকবার আমি এবং অন্য অনেকে তাকে রাজউকের জমির জন্য আবেদন করতে বলেছেন। তিনি বারবারই বলেছেন, ঢাকায় আমার এজমালি হলেও একটি পৈতৃক সম্পত্তি আছে। আমি মিথ্যা ঘোষণা স্বাক্ষর করতে পারব না। তাছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার ও কিস্তির টাকাই বা আমি কোথা থেকে দেব?’ আমরা রাজউকের দুই জন চেয়ারম্যান ও পূর্তসচিবকে তাকে বলতে শুনেছি, ‘স্যার, আপনি কেবল আবেদন করেন। বাকিটা আমরা দেখব। তিনি কোনোমতেই রাজি হননি’।

এতে মনে হয়েছে প্লট পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান শর্ত হচ্ছে ঢাকায় কোনো বাড়ি বা জমি না থাকা। ফলে শর্ত মতে হান্নান সাহেব প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। তিনি পৈতৃকভাবে জমির মালিক ছিলেন। এখানে সততার কী আছে? যেটা তিনি করেন নাই সেটা হলো মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে প্লট নিতে রাজী হননি, এই বেআইনি ও অনৈতিক কাজটুকু তিনি করেননি। এই তো? এমন উদাহরণের দেশে খুব অভাব? সম্ভবত ফাওজুল কবির খান সাহেবদের কাছে অভাব হতে পারে। এই লেখা পড়ে মনে হয়েছে তিনি অবশ্যই প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। প্রস্তাব দেওয়া খান সাহেব এবং রাজউকের দুজন চেয়ারম্যান ও পূর্ত সচিব, উনারা যে অসৎ এটাও তো প্রস্তাবের ধরনেই বোঝা যায়।

নয়াদিগন্ত পত্রিকায় জানা গেল শাহ আবদুল হান্নান আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এ কে এম শামসুল হক গোলাপ মিয়ার ভাগ্নে এবং প্রয়াত জাতীয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামেরও আত্মীয়। হতেই পারে। এক্ষেত্রে আত্মীয়দের সততা নিয়েও কিছু কথা বলা উচিৎ। আত্মীয়দের সততা কোন পর্যায়ের এবং শাহ আবদুল হান্নান সাহেবের সততা কোন পর্যায়ের, এর একটা বিহিতও হোক। গোলাপ মিয়া ১৯৮৬ এবং ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গোলাপ মিয়ার কিন্তু ঢাকায় কোনো প্লট বা বাড়ি ছিল না। তারও সরকারি প্লট পাওয়ার সুযোগ ছিল এবং সেটা মিথ্যা ঘোষণা না দিয়েই তিনি পেতে পারতেন। কিন্তু গোলাপ মিয়া সেপথে যাননি। শাহ আবদুল হান্নান আমাদের জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের আত্মীয়। শুধু জানা থাকুক যে, সৈয়দ নজরুল ইসলামের ঢাকায় কোনো বাড়ি-প্লট-ফ্ল্যাট কিছুই ছিল না। ১৯৯৬ সালের পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতীয় চারনেতার পরিবারকে একসঙ্গে প্লট দিয়েছিলেন, সেটা থেকে নিজের অংশ বিক্রি করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার স্ত্রীর চিকিৎসায় ব্যয় করেছিলেন বলে জানা যায়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন, তিনবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, কোনো প্লট-বাড়ি-ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন বলে জানি না। রাজনীতিবিদদের মধ্যে উনাদের কথাটুকু বললাম শুধু এজন্য যে, সকলেই কিশোরগঞ্জের মানুষ এবং পরস্পরের আত্মীয়। আরও অসংখ্য রাজনীতিবিদের নামোল্লেখ করতে পারবো, যারা কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও প্লট-বাড়ি-ফ্ল্যাট পাননি, নেননি এবং নিজেরও নেই। প্রথম আলোর বদৌলতে জানা গেল শাহ সাহেব প্লট নেননি বলে তিনি বিরাট সৎ মানুষ। প্রথম আলো নিউজের সঙ্গে যে বাজারমুখী ভিউজ (মতামত) লোকজনকে দেদারসে গেলায়, এটাও তার একটা। পত্রিকার কাটতি বাড়াতে, জামাতিদের আস্থাভাজন হতে এতটা কসরত কেন করতে হলো বুঝলাম না। এতদিন অপেক্ষা-ই বা কেন? আইটেম হিসেবে শাহ আবদুল হান্নানকেই বেছে নিতে হলো! চাঁদে যাওয়া হুজুর, তেঁতুল হুজুর প্রমুখদের নিয়ে গোলাম মাওলা রনি হুজুরকে দিয়ে লেখালেই হতো। গ্রীক সভ্যতায় যেমন সফিস্ট বুদ্ধিজীবী ছিল, এদেশেও প্রথম আলো তেমন সফিস্ট পয়দা করেন, সাবেক আমলাদের খুঁজে আনেন— যা ড সা'দত হুসাইনের ভাষায় ‘রুক্ষ সূক্ষ্ম হীর মুক্তো’ হয়ত।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের ভাষ্যমতে, ‘আর্থিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার যে নজির শাহ আবদুল হান্নান রেখে গেছেন, তা বিরল’। আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামাতে ইসলামের রাজনীতি করলে, দেশকে জামাতে ইসলামাইজেশন করার স্বপ্ন দেখে লেখালেখি করলেও যে বুদ্ধিবৃত্তিক সততা বহাল থাকে কিংবা অর্জিত হয় এটা এই প্রথম জানা হলো। শাহ আবদুল হান্নান ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং, সামাজিক সংস্কার এবং ইসলামের বিভিন্ন দিকের ওপর বই ও অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। উসুলে ফেকাহর ওপর বই লিখেছেন। তার সবকিছুই ইসলামকেন্দ্রিক, স্পষ্ট করে জামাতে ইসলামকে জাস্টিফাই করতে লিখেছেন। জামাতে ইসলাম যুদ্ধাপরাধী দল, এটার পক্ষে লেখা যদি বুদ্ধিবৃত্তিক সততা হয়, তাহলে বলতেই হবে ফরহাদ মজহারের সেই কটূক্তি, ‘একাত্তরে বোমা মেরে, গুলি করে যদি মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়, তাহলে এখন যারা (জঙ্গি) বোমা মারছে তারাও মুক্তিযোদ্ধা’। বয়ানের কী যোগসাজশ!

এবার আসল প্রসঙ্গে আসি। মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে শাহ আব্দুল হান্নানের অবস্থান কী? যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গে তার ভূমিকা কী? মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ৩২ বছরে সাহসী যুবক ও শুল্ক বিভাগের তরুণ কর্মকর্তা। যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময়ে তিনি সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ, সিনিয়র সিটিজেন। আসুন অবস্থানটা দেখে আসি।

শাহ হান্নান ২০০৭ সালে একুশে টিভিতে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বলেছিলেন, এটি পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধ। ৭১-এ যা হয়েছে তা ভারতের ষড়যন্ত্রে একটা ‘গণ্ডগোল’। গণহত্যায় ১০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছিলেন সামিয়া জামান। আশাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তার অবস্থান পরিস্কার হয়েছে। তথাকথিত আর্থিক সততা দিয়ে বাংলাদেশবিরোধী রাজনীতি ঢাকার অপচেষ্টা এবং জামাতে ইসলামের রাজনীতিকে জাস্টিফাই করার কৌশল। এটা কিন্তু এক ধরনের অপরাধ।

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই বিবিসি আয়োজিত এক সংলাপে শাহ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানের নয়। বিশ্বের কেউ বলেনি যে এটা আন্তর্জাতিক মানের। তাই এর কোনো বিচারই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। সব বিচারই প্রশ্নবিদ্ধ। আশা করি আপিল বিভাগ সুবিচার করবে’।

অথচ বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকমানের হয়েছে। যারা বিরোধিতা করেছে তারা শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই করছেন। এটা কারও অজানা নয়। একই সংলাপে শাহ আবদুল হান্নান আরও বলেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই’। তিনি বলেন, ‘জামায়াত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল এটা জেনেই ১০ ভাগ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেয়। আমি মনে করি একটা প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত টিকে থাকবে’। হেফাজত প্রসঙ্গে বলেন, ‘হেফাজতের ১৩ দফাতে নারীর বিরুদ্ধে কিছু নেই। তিনি (শফি) শালীনতার কথা বলেছেন। তবে উনি তেঁতুলের উদাহরণ না দিলেও পারতেন’।

সমস্যা হলো মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে আমলাদের কার কী ভূমিকা ছিল এই নিয়ে বিশদাকারে কোনো বই পাওয়া যায় না। এ এস এম সামছুল আরেফিন সংকলিত ও সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান কিংবা কাবেদুল ইসলাম সংকলিত ও সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধে সিএসপি ও ইপিসিএস অফিসারদের ভূমিকা বই দুটোতে মূলত রাজনৈতিক দলসমূহ, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সিএসপি বা ইপিসিএস-এর প্রশাসন ক্যাডার, ফরেন ক্যাডার, পুলিশ ক্যাডারের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সামরিকবাহিনীরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদেরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের বাইরে আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে যাদের কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত সহজলভ্য হয়নি। পাকিস্তান আমলের তথ্য ক্যাডার, অডিট, ফিনান্স, কাস্টমস, ট্যাক্স, জুডিশিয়ারি এসব ক্যাডারের সদস্যদের কোন তথ্য পাওয়া যায় না। সম্ভবত কাস্টমস বা ফিনান্স ক্যাডারের সদস্য শাহ আবদুল হান্নানেরও তখনকার সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের জানার সুযোগ ঘটেনি।

এক্ষেত্রে ড. আকবর আলি খানের সাক্ষাৎকার থেকে কোট করছি, ‘আকবর আলি খান: না পারার অনেক কারণ আছে। খুব কমসংখ্যক বাঙালি আমলাই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। ৮০ শতাংশ আমলা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের যখন আত্তীকরণ করা হলো, তারা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করত না। এর ওপর ছিল ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে না পারা’। গত ১৭ এপ্রিল দৈনিক সমকালে এটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম আলোর সম্পাদক তার রাজনৈতিক মহাযাত্রা শুরু করেছিলেন মহান মার্ক্সের দর্শনে। এই দর্শনের কল্যাণেই বহুদিন মস্কোতে কাটিয়েছেন। সেখান থেকে ওয়াশিংটন-দিল্লি এবং দিল্লি-ওয়াশিংটন করতে করতে এখন মক্কা-মদিনার পথে আছেন। জামাতি শাহ আবদুল হান্নান বিরাট সৎ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মহান লেখক এবং প্রথম আলো সম্পাদক বিরাট কমিউনিস্ট। এটা বোধহয় আরেক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যা ধেয়ে আসছে...।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad