Ad

বিজ্ঞাপন

‘বর্গী’দের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিন— ফখরুল

June 10, 2021 | 5:46 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘বর্গী’ অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Ad

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এখন আর সময় নাই। আগামী দিনের জন্য তৈরি হোন। শক্ত হয়ে দাঁড়ান নিজেদের পায়ে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করুন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করুন। দাবি একটাই— চলে যাও, চলে যাও, রেহাই দাও বাংলাদেশকে।’

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী ‍উপলক্ষে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) এই আলোচনা সভা আয়োজন করে।

Ad

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার কথা, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। তা হলে না হলে এই বাংলাদেশের মানুষ জানে, কীভাবে অধিকার আদায় করতে হয়।’

‘চারিদিকে তাকিয়ে দেখবেন— আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, বড় নেতা-ছোট নেতা-পাতি নেতা রাতারাতি সব আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এদের হাতে যদি দেশ বেশি দিন থাকে, এই দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, এ দেশ টিকবে না। ছোটবেলা আমরা গান শুনেছি— ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে। এই সেই বর্গী,’— বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এদের ভয়ে সব পালিয়ে যাচ্ছে। কাউকে কোনো কথা বলতে দেবে না। কথা বললেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট। আর বেশি কথা বললে আমাদের নিপুণ রায় চৌধুরীর মতো একটা মিথ্যা অডিও ক্লিপ তৈরি করে নাশকতার মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরকম নজির অসংখ্য। সাংবাদিক ভাইয়েরা কিছু শক্ত করে লিখতে পারে না। আমি তাদের দোষারোপ করি না, বরং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করি। কারণ লিখলেই তো জেল, লিখলেই তো মামলা, লিখলেই তো ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজ দলের নেতাকর্মীরা জেলখানায়, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বন্দি অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে। এমনই অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি ও এমনি আলোচনার মধ্য দিয়ে কথাই বলে যাচ্ছি। আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখন কথা বলার চেয়ে বেশি জরুরি সরকারকে পতন কীভাবে করব, সেটা নিয়ে ভাবা। সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন। অতীতের ইতিহাসে আমরা থেকেছি, আগামীর ইতিহাসেও আমরা থাকব। আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করব।’

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আন্দোলনের ডাক এলে আামি নব্বইয়ের চেতনায় ঘোষণা দিতে চাই— হাসিনার পতন ছাড়া ঘরে ফিরব না। এভাবে সবাই প্রস্তুতি নিন।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, এই করোনার সঙ্গে সম্ভবত এই সরকারের এক ধরনে আঁতাত রয়েছে। ওনাদের (সরকার) প্রচার করা মৃতের ও আক্রান্তের সংখ্যা দেখেন। যখনই তাদের প্রয়োজন পড়ে, মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। আবার যখনই প্রয়োজন পড়ে, মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমে যায়।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের বলব— সারাদেশের মানুষ ঢাকার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড সংগঠনের শক্তি বাড়ান। আগামীতে এই শক্তি নিয়ে আমাদের মাঠে নামতে হবে। আমরা দেখতে চাই, ওদের কত শক্তি আছে আমাদের জনতার শক্তিকে মোকাবিলা করার।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ অন্যরা।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad