Ad

বিজ্ঞাপন

আমের নাম সূর্যডিম, ১ কেজির দাম ১ হাজার

June 11, 2021 | 8:00 am

চলন্ত চাকমা, চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: জাতীয় ফল না হলেও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল নিঃসন্দেহেই বলা যায় আমকে। বাংলা বর্ষপঞ্জির জ্যৈষ্ঠ থেকে শুরু করে আশ্বিন পর্যন্ত কয়েকটি মাস নানা জাতের আমের গন্ধে ম ম করে সারাদেশ। ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, রানিপছন্দ, খিরসাপাত, আম্রপালি, হাড়িভাঙা, ফজলি, নাগ ফজলি— এমন নানা জাতের আমে এখন কেবল হাটবাজার নয়, ফেসবুকের বাজারও জমজমাট।

Ad

বিজ্ঞাপন

দেশীয় এমন বৈচিত্র্যময় জাতের সব আমের ভিড়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে হ্লাসিমং চৌধুরী আবাদ করছেন জাপানের বিশেষ প্রজাতির এক আম। এর নাম ‘মিয়াজাকি আম’, বাংলাদেশে যা ‘সূর্যডিম নাম’ নামে স্বল্প পরিসরে পরিচিত। আর এই আম হ্লাসিমং বিক্রি করছেন প্রতি কেজি এক হাজার টাকায়!

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় বসবাস হ্লাসিমং চৌধুরীর। জানালেন, তার বাগানে ১২০টি মিয়াজাকি তথা সূর্যডিম আমের গাছ আছে। তবে সবগুলো আম গাছে এখনো ফল আসেনি, আম এসেছে দুই-তৃতীয়াংশ গাছে। দেশে এই জাতের আম প্রথম তিনিই আবাদ করছেন বাণিজ্যিকভাবে।

Ad

বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, হ্লাসিংম চৌধুরী পাঁচ-ছয় বছর আগে আমের বাগান করেছেন। তার বাগানে রয়েছে ৬৫ প্রজাতির আম গাছ। এর মধ্যে মিয়াজাকি আমের গাছ রয়েছে ১২০টি। এই আম অত্যন্ত সুস্বাদু এবং দেশি আমের তুলনায় একেবারেই আলাদা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়াজাকি আমের মিষ্টতা সাধারণ আমের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি। এতে আঁশ নেই একদমই্ একেকটি আমের ওজন হয় ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম। সূর্যাস্তের সময় পশ্চিমের আকাশ যে রক্তবর্ণ ধারণ করে, তার সঙ্গে মিলিয়েই একে ‘এগ অব দ্য সান’ বলা হয়। আর তার সঙ্গে মিলিয়েই বাংলায় একে বলা হয় ‘সূর্যডিম’।

জাপানের এই আম চাষ করে বেশ সন্তুষ্ট হ্লাসিমং চৌধুরী। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ২০১৬ সালে আমি দেশের বাইরে থেকে এই আমের মাতৃ চারা সংগ্রহ করি। মাটির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে ২০১৭ সালে চারা রোপণ করি। ২০১৯ সাল থেকে ফলন পেতে শুরু করেছি। এখনো সব গাছে আম আসেনি। যেসব গাছে আম এসেছে, প্রতি গাছে ১৭ থেকে ১৮টি করে আম থাকে।

হ্লাসিমং আরও বলেন, এর আগে দেশে কেউ এই আম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেনি। শখের বশে হয়তো দুয়েকটি গাছ কেউ লাগাতে পারে।  আমিই দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে মিয়াজাকি আমের চাষ করেছি। ফলনও খুব ভালো পেয়েছি। সব মিলিয়ে বলা যায়, এই আম চাষ করে আমি সফল।

জাপানি মিয়াজাকি তথা সূর্যডিম আমের আবাদে ভালো সম্ভাবনা দেখছেন খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, মহালছড়িতে এই আমের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, পার্বত্য চট্টগ্রামে এই আমের আবাদ ভালো হবে। খাগড়াছড়িতে এখন পর্যন্ত চার জনের বাগানে এই আমের গাছ আছে বলে জেনেছি। হ্লাসিমং ছাড়া আর কারও গাছে এখনো ফল আসেনি। আগামী বছর হয়তো তাদের গাছেও ফল আসবে।

ড. রশীদ আরও বলেন, যারা ভালো পরিচর্যা করতে পারবেন, তারা নিশ্চয় লাভবান হবেন। এই আম বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করে লাভবান হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে এটি আমাদের জন্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় একটি ফল।

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad

বিজ্ঞাপন

Ad