Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এবারের বাজেট সংকোচনমূলক ও মন্দার: সিপিবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ জুন ২০২৫ ০৯:১৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: প্রস্তাবিত বাজেটকে বাজেট সংকোচনমূলক ও মন্দার বাজেট বলে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)।

সোমবার (২ জুন) রাতে দলটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্সের সই করা এক বিবৃতিতে, আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সিপিবি নেতা।

বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেছেন, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম বাজেট। সেই হিসেবে এটি অনির্বাচিত সরকার প্রণীত বাজেট । স্বভাবতই এতে কোনো কাঠামোগত মৌলিক পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে কিছু পদচিহ্ন রেখে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেরকম কোনো চমক বাজেট দেখাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘এবারের বাজেট শুধু গতানুগতিক নয়, চমকহীনও বটে। উপরন্তু এবারের বাজেট হয়েছে সংকোচনমূলক ও মন্দার বাজেট। এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইএমএফের নির্দেশ অনুযায়ী ‘বেল্ট টাইট’ করে ব্যয় কমানোর জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বাজেটের আয়তন, মোট উন্নয়ন ব্যয়, মোট ঋণপ্রবাহ এক কথায় উৎপাদনশীল ব্যয় প্রসারের ওপর এই বাজেটে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে আগামীতে প্রবৃদ্ধির যে টার্গেট ঠিক করা হয়েছে ৬ শতাংশের মতো, তা কার্যকর হবে না।’

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশাল পরিমাণ ব্যয় করতে স্বচেষ্ট হবে। বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য অতি ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ কর আদায় করে বাজেটকে আরও বৈষম্যবিরোধী ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ নির্ভর করা হবে। কিন্তু এদিক দিয়ে সুদের বোঝা ও রাজস্ব তোলায় ব্যর্থতার জন্য বাজেট তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কিছু সামান্য এদিক-ওদিক শুল্ক বাড়ানো-কমানো ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর ছাড় ও সামাজিক সুরক্ষা আওতায় কিছু সংস্কার ছাড়া বাকি সব জায়গায় কোনো পদচিহ্নই রাখতে পারেনি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তদুপরি সুদের হার বেশি, ছোট মাঝারি শিল্প, কৃষকের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, তেল-গ্যাস বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে এই বাজেটের নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও কৃষকের মধ্যে কোনো সুখবর নেই। এই বাজেট তাই গণতান্ত্রিকও নয়। এই বাজেট অবস্থা কি স্থিতিশীল রেখে আগামী বছর জুনের আগে নির্বাচিত সরকারের কাছে বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রচিত একটি বাজেট। যেসব পদচিহ্ন রেখে যাওয়ার বড় বড় কথা অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, তা তার বাজেটে শেষ পর্যন্ত আর স্থান পায়নি। এখন মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং টাকার মান কিছুটা স্থির করতে সরকার সক্ষম হয়েছে বটে, তবে এই বাজেটে সেটা নিশ্চিত করতে গিয়ে মন্দা বেকারত্ব বিদেশ নির্ভরতার বিপদ ডেকে আনার সমূহ আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।’

সারাবাংলা/এফএন/এসডব্লিউ