Friday 16 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘দশদিনে তিন সিদ্ধান্ত— বন্দর অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৫ ১৮:২২
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম ব্যুরো: গত দশদিনে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারা বলেছেন, বন্দরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ষড়যন্ত্রকারী বন্দরকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে স্কপ নেতারা এ অভিযোগ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে এ সমাবেশ হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে লুকিয়ে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা বন্দরকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। গত দশ দিনে বন্দর নিয়ে তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কখনো বলা হচ্ছে, সাইফ পাওয়ার টেকের সঙ্গে চুক্তি তিন মাস বর্ধিত করা হবে। আবার বলা হচ্ছে, আগামী ছয় মাস বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এনসিটি পরিচালনা করবে। এরপর আবার বলা হয়েছে, নৌবাহিনী দ্বারা বন্দর পরিচালনা করা হবে।’

‘গত ১০ দিনে এনসিটি নিয়ে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বন্দরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেয়েও বন্দরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এক শ্রেণির বন্দর কর্মকর্তাদের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বন্দর নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এনসিটি দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিতে হবে কেন- এটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও সর্বোচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন এনসিটি এখন দেশের সবচেয়ে সফল কনটেইনার টার্মিনাল। অথচ একে বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং চরম আত্মঘাতী।’

শ্রমিক দল নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় একতরফাভাবে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো বহাল রেখেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’

সভায় জানানো হয়েছে, ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় স্কপের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং ১২ জুলাই শ্রমিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা মহিন উদ্দিন, বিএলএফের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হক।

সারাবাংলা/আরডি/এসআর