Tuesday 20 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফরিদপুরে শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৫ ২৩:০২
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফরিদপুর: ফরিদপুরের মটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১১টায় শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ডে অবৈধ নির্বাচনের প্রতিবাদে মানববন্ধনের সময় একটি পক্ষ তাদের ওপর হামলা করে। দুপুর ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের ৮ জন আহত হয়।

বিজ্ঞাপন

আহতরা হলেন- বিষু কুমার (২৮), তামিম ইসলাম (৩১), রিংকু(৪০), লেলিন(৩২)।

জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ করে আসছে। এক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ করে ইয়াসিন মোল্লা ও অপর গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ করে ইসমাইল হোসেন লাভলু।

মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আইয়ুব মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, ‘ইয়াসিন মোল্লা গোপনে চুপিসারে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সাধারণ শ্রমিকদের না জানিয়েই ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে। তাদের পাঁচ হাজারের অধিক সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশ সদস্য বাদ দিয়ে মাত্র ১ হাজার সদস্যকে রেখে ২৫ জুলাই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ঘোষিত তারিখের আগেই ১৭ জুলাই এককভাবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা বিজয়ী হয়।’

ইসমাইল হোসেন লাভলু সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ে ওই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেন। এ সময় অতঙ্কিতভাবে ইয়াসিন গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা এনে হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং নির্বাচনের দাবিতে দুপুর ১২টা থেকে ফরিদপুরের সাধারণ পরিবহন শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

ওই শ্রমিক সংগঠনের সদ্য সভাপতি ইয়াছিন মোল্লা তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা বৈধ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের আয়োজন শেষে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নির্বাচিত হয়েছে।’ একইসঙ্গে বিরোধী পক্ষের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আইনগতভাবে মোকাবিলার কথা বলেন তিনি।

কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও সেনাবাহিনী আসার পর শ্রমিকদের উত্তেজনা কমতে থাকে। তাদের সমস্যা নিয়ে আমরা দুই গ্রুপের সঙ্গে দ্রুত বসব।

সারাবাংলা/এইচআই