টাঙ্গাইল: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ছড়িয়ে পড়া ছবির ওই নারী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের সুইটি আক্তারের বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
মেয়ের জীবিত থাকার খবরে আশায় বুক বাঁধলেও এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। তবে সুইটি আক্তারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাইনি তার পরিবার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সরেজমিনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামে সুইটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ে সুইটির ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। আর নির্বাকভাবে বাবা তাকিয়ে আছেন মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিরচ্ছেদের খবর তাদের মনে তৈরি করেছে গভীর শঙ্কা। সুইটি আক্তার বেঁচে আছেন, নাকি তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা।
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পরও সুইটি আক্তারের বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। এজন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছোট মেয়ে সুইটি আক্তার। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সুইটি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের কথা বলে তাকে পাঠানো হয় বলে দাবি স্বজনদের। এ জন্য দালাল নতু মিয়াকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। দেশটিতে পৌঁছানোর প্রায় ছয় মাস পর গ্রেফতার হন তিনি। তবে গ্রেফতারের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় ১ বছর পর। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সুইটি তাদের আটকের বিষয়টি জানান। সুইটি তার পরিবারকে মারামারি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে প্রবাসে থাকা সুইটির এক বান্ধবী পরিবারকে জানায়, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গ্রেফতার হয়েছিল সে।
সুইটি আক্তারের বাবা ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন সুইটি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এখন মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় দিন কাটছে তাদের।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটি আক্তারের ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুইটির শিরচ্ছেদের ঘটনায় জড়িত রয়েছে কি না সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুইটির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তার ব্যাপারে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল আলম বলেন, অফিসিয়ালি এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।