Thursday 22 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পালটা হামলার হুমকি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৬
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পালটা আঘাত হানবে ইরান। বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দিল তেহরান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রয়টার্সকে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।

তিনজন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটির কিছু কর্মীকে স্থানটি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। তারা বলেছেন, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে কাতারের মার্কিন সামরিক বাহিনীর আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মীকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বাইরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতর, কাতারে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত বছর পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন হামলার জবাবে ইরান আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তেহরান কাতারের ঘাঁটিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘন্টা আগে সেখানকার কাছাকাছি একটি ফুটবল স্টেডিয়াম এবং শপিং মলে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, তার দেশ মনে করছে যে ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপের পরিধি ও সময় এখনো অস্পষ্ট। ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে তেহরান আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত এই অঞ্চলের সব দেশকে জানিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালানো হবে।

উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং আরাগচি তুরস্ক ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র।

আরাগচি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমানে ‘শান্তি বিরাজ করছে’ এবং ইরান যেকোনো দেশি হস্তক্ষেপ থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

ট্রাম্প বারবার ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারণা, ট্রাম্প হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও এই পদক্ষেপের পরিধি এবং সময় এখনও স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েল বলেছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন বা মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল।

দোহার মার্কিন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে এ হুঁশিয়ারির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

ইরানি কর্তৃপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেছে এবং এ অস্থিরতা সৃষ্টিতে ইন্ধন যোগানো অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।

মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন যে ইরান যদি দেশটির বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে তিনি ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবেন। তিনি বলেন, ‘তারা যদি তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে আপনারা বড় কিছু দেখতে পাবেন।’

ট্রাম্প ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত বলেননি।

একটি অধিকার সংস্থার হিসাব অনুসারে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানে ইন্টারনেট–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানকার তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এইচআরএএনএ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারি কর্মী নিহত হওয়ার তথ্য সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর