Sunday 01 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইরানে ইন্টারনেট চালুর ইঙ্গিত, রাষ্ট্রীয় টিভি হ্যাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা শিগগির চালু করা হতে পারে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট প্রায় ১২ দিন বন্ধ থাকার পর এ ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেশটির জ্যেষ্ঠ এক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরান সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শীর্ষ পর্যায়ের সংস্থাগুলো ইন্টারনেট চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সেবা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, রোববার (১৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

হ্যাকিংয়ের সময় টেলিভিশন চ্যানেলের পর্দায় ‘ইরানের জাতীয় বিপ্লবের প্রকৃত খবর’ শিরোনাম ভেসে ওঠে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ওই সময় ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র রেজা পাহলভির বার্তা সম্প্রচারিত হয়। সেই সঙ্গে জনগণকে সরকারবিরোধী বিদ্রোহে নামার আহ্বান জানানো হয়।

দেশটির আরেক সংসদ সদস্য ও কট্টরপন্থী নেতা হামিদ রাসায়ি বলেন, ‘ঢিলেঢালা সাইবারস্পেস নিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অভিযোগের প্রতি কর্তৃপক্ষের আগেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।’

গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের রাজপথ তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। তবে সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

তিনি আরও জানান, সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ঘটেছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়।

বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তবে ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীর দাবি, বিদেশি শক্তির মদদে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হাসপাতাল ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এবারই প্রথম এত বড় বিক্ষোভের মুখোমুখি হলো দেশটি। ইরানে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল হওয়ায় বিক্ষোভ দমন ও সহিংসতার নানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

২০০৯ ও ২০২২ সালের তুলনায় ইরানে এবারের সরকারবিরোধী আন্দোলনে বেশি প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও ব্যাপক হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়ার পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর