Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গুলশানে আনন্দমেলা / যান্ত্রিক দূরত্ব ঘুচিয়ে গাঢ় হয়েছে সামাজিক বন্ধন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৬
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে রাজধানীর গুলশানে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আনন্দ মেলা। গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে টানা দশমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে শুরু হয়ে এ মেলা শেষ হয় শনিবার সন্ধ্যায়। গুলশান সোসাইটি পার্ক-সংলগ্ন ৬২ ও ৫৬ নম্বর সড়কে এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।

মেলায় দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন উদ্যোক্তারা। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অংশ নেন স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাও। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল ‘ওপেন মাইক’ পরিবেশনা। যেখানে অনেকে নিবন্ধন করে মঞ্চে গান, আবৃত্তি, নাচ, বাদ্য কিংবা কমেডি পরিবেশনের সুযোগ পান।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকরদের ভাষ্য, শহুরে যান্ত্রিক জীবনে একই পাড়ায় থেকেও প্রতিবেশীদের মধ্যে যোগাযোগ কম। সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে সবাইকে একটি আনন্দ আয়োজনে যুক্ত করতেই এ উদ্যোগ। তাদের মূল লক্ষ্য হলো পরিবার-বন্ধু নিয়ে কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া আর সুরে-ছন্দের সম্মিলনে ‘এই মহল্লা আমাদের’—এমন একটি ধারণা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।

শনিবার বিকেলে মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইরফান উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ আয়োজন ছিল। আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পণ্য তুলে ধরা হয়েছে। এমন আয়োজন প্রতি মাসেই হওয়া দরকার।’

নিত্যব্যবহার্য টেবিলওয়্যার নিয়ে মেলায় আসেন ‘লীলাবালি ক্রাফট’। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা সেলিনা মোমেন বলেন, দুই দিনে সাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছি। স্ত্রী ও সদ্য হাঁটতে শেখা সন্তানকে নিয়ে মেলায় আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী সামির মল্লিক। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের সবার সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দেয়। এমন ভিন্নধর্মী আয়োজন বাড়ানো দরকার।

মেলার আয়োজন নিয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বলেন, ‘আমরা এখানকার পাড়াভিত্তিক সম্পর্কগুলো জোরদার করতে বছরজুড়েই বিভিন্ন আয়োজন করি। তারই অংশ হিসেবে আমাদের আনন্দ মেলার আয়োজন।’

ওমর সাদাত আরও বলেন, ‘এখানে পরিবার–পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এ এলাকার পরিচিতজনেরাে এসেছেন, তাদের পরস্পরের দেখা হয়েছে, যোগাযোগ বন্ধন গাঢ় হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের মধ্যে সম্পর্কগুলো আরও জোরদার হোক। পাড়াভিত্তিক সম্পর্কগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া আরও বাড়ুক।’

এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে জানিয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ উৎসব আর আয়োজনে বাঁচতে চান। তাদের সাধারণ জীবনযাপনের একটি ছাপ মেলার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এসএইচএস