Thursday 17 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

২১-এর চেতনায় ২১ টাকায় ফোন / ই-কমার্স ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় নতুন সরকারের কাছে ২৫ দফা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা)
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫২
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতকে ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। ই-কমার্স কেবল পণ্য কেনাবেচার মাধ্যম নয়, এটি লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক জাগরণের জন্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

আমরা চাই এমন একটি ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম, যেখানে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। আমাদের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি পুনরায় নতুন স্পৃহায় গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ই-কমার্স খাতকে কেবল একটি ক্রমবর্ধমান বাজার নয়, বরং জাতীয় প্রবৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্মার্ট অর্থনীতি নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর পটপরিবর্তন এনেছে। সম্পূর্ণরূপে ইন্টারনেট ও লজিস্টিকস নির্ভর হওয়ায়, এই অভ্যুত্থানকালীন দীর্ঘ অচলাবস্থা ই-কমার্স শিল্পের অন্তর্নিহিত ভঙ্গুরতা উন্মোচন করেছে। ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে তখন দৈনিক লেনদেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হ্রাস পায় এবং প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন ব্যাহত হয়। এই সংকট স্পষ্ট করে দেখায় যে, সুশাসন ও আইনি নিরাপত্তা ছাড়া একটি ডিজিটাল অর্থনীতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে (ডিসেম্বর ২০২৫) ই-কমার্স বাজারের আকার প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার এবং দৈনিক লেনদেন ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা হলেও মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক উত্তরণকালীন অস্থিরতায় এই খাতটি পুনরুদ্ধারের দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

অনলাইন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের শক্তি: অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ

সঠিক নীতিমালা ছাড়াই আমাদের অনলাইন উদ্যোক্তারা এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন-

কর্মসংস্থান: বর্তমানে দেশে ৫ লাখের বেশি সক্রিয় অনলাইন উদ্যোক্তা রয়েছেন। পরিবার সহ প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ আজ এই অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি: ভারতে জিডিপিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অবদান ৩০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ৪০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা ২৫ শতাংশের নিচে। এই খাতকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক নীতিমালা দিলে আগামী ৫ বছরে জাতীয় আয়ে অতিরিক্ত ২ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করা সম্ভব।

লজিস্টিক ব্যয়: উন্নত বিশ্বে পণ্য পরিবহনের খরচ ৫ থেকে ৭ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। সরকারি অবকাঠামো ও ডাক বিভাগ ব্যবহার করে এই খরচ অর্ধেক করা গেলে বছরে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রচলিত আইনি কাঠামো ও উদ্যোক্তাদের বাস্তব প্রতিবন্ধকতা

বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত বর্তমানে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’ এবং ‘আইসিটি আইন’-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই আইনগুলোর প্রয়োগ এবং বর্তমান ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যা উদ্যোক্তাদের সামনে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে-

ডিবিআইডি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: ডিজিটাল বিজনেস আইডি বা ডিবিআইডি চালু করা হলেও এটি পেতে ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট নিবন্ধনের যে দীর্ঘসূত্রতা, তা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথেই নিরুৎসাহিত করছে।

অ্যাস্ক্রো ও মূলধন সংকট: আস্থার সংকট কাটাতে অ্যাস্ক্রো সিস্টেম চালু হলেও অনেক ক্ষেত্রে ছোট উদ্যোক্তাদের টাকা ক্লিয়ারেন্স পেতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক মূলধন সংকটে ফেলছে।

ব্যাংকিং ও বিনিয়োগের অভাব: প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখনও স্থাবর সম্পত্তি ছাড়া ঋণ দিতে নারাজ। ফলে ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের ডিজিটাল লেনদেন বা ক্যাশ-ফ্লো দেখিয়েও ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় মূলধন পাচ্ছেন না।

লজিস্টিকস ও কুরিয়ার হয়রানি: ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর ক্যাশ অন ডেলিভারি টাকা সময়মতো পরিশোধ না করা এবং পণ্যের সঠিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পথে বসছেন।

অস্পষ্ট কর নীতি: ই-কমার্সের জন্য সুনির্দিষ্ট ও সহজ কর কাঠামো না থাকায় সাধারণ উদ্যোক্তারা ভ্যাট-ট্যাক্সের হিসাব মেলাতে গিয়ে আইনি ভয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

নতুন সরকারের কাছে ২৫-দফা সমন্বিত দাবি ও রোডম্যাপ

কাঠামোগত ও আইনি সংস্কার:

১. ই-কমার্সকে শিল্প’ ঘোষণা: ই-কমার্সকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করা।

২. স্মার্ট ও স্বতন্ত্র ট্রেড লাইসেন্স: বড় প্রতিষ্ঠান এবং ফেসবুক ভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য আলাদা ক্যাটাগরি ও সাশ্রয়ী ফি-তে ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স প্রবর্তন।

৩. জাতীয় অনলাইন উদ্যোক্তা শুমারি: প্রতিটি ক্ষুদ্র ও এফ-কমার্স উদ্যোক্তার সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া।

৪. ডিজিটাল ট্রাইব্যুনাল ও দ্রুত বিচার: ই-কমার্স সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত বিচার আদালত গঠন।

৫. ই-কমার্স উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন: সরকার, ই-ক্যাব ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় ই-কমার্স উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন।

৬. ই-ক্যাব নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ধারা: ই-ক্যাবকে প্রশাসক মুক্ত করে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের হাতে এর নেতৃত্ব ফিরিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করা।

আর্থিক ও কর সংক্রান্ত দাবি:

৭. জামানতবিহীন ‘স্মার্ট লোন’: স্থাবর সম্পত্তির বদলে ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য দেখে ক্যাশ-ফ্লো ভিত্তিক সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা।

৮. ট্যাক্স হলিডে ও কর অবকাশ: নতুন ও ক্ষুদ্র অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম ৫ থেকে ১০ বছর কর অবকাশ নিশ্চিত করা।

৯. ডিজিটাল পেমেন্ট ইনসেন্টিভ: ডিজিটাল পেমেন্টে ১% সরাসরি ইনসেন্টিভ প্রদান এবং এনবিআর-এর সাথে ই-কমার্স ডেটা সমন্বয় সহজ করা।

১০. নারী উদ্যোক্তা সমর্থন: সরকারি প্রণোদনা ও ঋণের ক্ষেত্রে নারী পরিচালিত ব্যবসার জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা নিশ্চিত করা।

লজিস্টিকস ও সরবরাহ চেইন:

১১. জাতীয় লজিস্টিকস নীতিমালা: সারাদেশে পণ্য বিতরণের জন্য একটি সমন্বিত ও সাশ্রয়ী লজিস্টিকস নীতিমালা প্রণয়ন।

১২. ডাক বিভাগ আধুনিকায়ন: ডাক বিভাগকে আধুনিকায়ন করে সারা দেশে অনলাইন পণ্য ডেলিভারির প্রধান মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলা।

১৩. সিএলটিপি বাস্তবায়ন: কুরিয়ার যেন ক্রেতা পণ্য বুঝে পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তাকে টাকা পরিশোধ করে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ‘ক্যাশ লজিস্টিকস ট্র্যাকিং পলিসি’ চালু করা।

১৪. আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব ও কোল্ড চেইন: কৃষি ও পচনশীল খাদ্যের জন্য প্রতিটি জেলায় সরকারি ‘শীতল সরবরাহ চেইন’ অবকাঠামো নির্মাণ।

১৫. প্যাকেজিং ও লজিস্টিকস মডার্নাইজেশন: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্যাকেজিং খরচ কমাতে বিশেষ হাব প্রতিষ্ঠা এবং গ্রিন ই-কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন।

বৈশ্বিক বাজার ও প্রযুক্তি:

১৬. ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স রপ্তানি নীতি: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য রপ্তানি সহজ করতে রপ্তানি প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান।

১৭. আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে (পেপাল/স্ট্রাইপ): কেবল পেপালের প্রতীক্ষায় না থেকে স্ট্রাইপ বা পেওনিয়ারের মতো আধুনিক গেটওয়েগুলো বাংলাদেশে সহজলভ্য করা।

১৮. ইউনিফাইড পেমেন্ট ইন্টারফেস: সব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে একটি ইউনিফাইড পেমেন্ট ইন্টারফেস মডেলের আওতায় আনা।

১৯. জাতীয় ই-কমার্স ডেটা সেন্টার: সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি জাতীয় ই-কমার্স ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।

২০. এআই ও ডেটা গভর্ন্যান্স: ই-কমার্স ফ্রড ও জালিয়াতি শনাক্তকরণে জাতীয় পর্যায়ে এআই বা মেশিন লার্নিং টুলের ব্যবহার উৎসাহিত করা।

দক্ষতা, উদ্ভাবন ও সুরক্ষা:

২১. প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ হাব: নামসর্বস্ব তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ বন্ধ করে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের ওপর জেলা পর্যায়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান।

২২. পাঠ্যক্রমে ই-কমার্স শিক্ষা: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে ই-কমার্স এবং ডিজিটাল লেনদেন শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা।

২৩. সাইবার ইন্স্যুরেন্স ও স্ট্যান্ডার্ড: প্ল্যাটফর্ম ও ডেটার সুরক্ষার জন্য সাইবার ইন্স্যুরেন্স নীতি এবং জাতীয় ই-কমার্স কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড বাধ্যতামূলক করা।

২৪. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগকালীন প্রোটোকল: ইন্টারনেট বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে জরুরি লেনদেনের জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সেল’ গঠন করা।

২৫. স্বচ্ছতা ও পাবলিক অডিট: আইসিটি বাজেটের সুফল কারা পাচ্ছেন সে বিষয়ে প্রতি বছর শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং ব্যর্থ প্রকল্পের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

বর্তমান ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে

১. জেলাভিত্তিক ডিজিটাল হাট বা ই-কমার্স মেলা: অনলাইন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের সরাসরি সংযোগ ও আস্থার সম্পর্ক গড়তে প্রতি জেলায় বার্ষিক মেলার আয়োজন করা।

২. বাজেট বাস্তবায়ন মনিটরিং: আইসিটি বাজেটের একটি অংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বরাদ্দ রেখে তা তদারকির জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন।

৩. গ্রিন ই-কমার্স ও সাস্টেইনেবিলিটি: পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও ইলেকট্রিক ডেলিভারি যানবাহনের ব্যবহারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা ও অবকাঠামোগত সহায়তা।

৪. ন্যাশনাল ট্রাস্ট সিল: সরকারিভাবে নিবন্ধিত ও স্বচ্ছ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি আস্থার প্রতীক বা ন্যাশনাল ট্রাস্ট সিল প্রবর্তন করা।

সুশাসন ও মেধাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের প্রত্যাশা

আমরা বিশ্বাস করি, নতুন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মেধাভিত্তিক নীতিনির্ধারণী কাঠামো গড়ে তুলবে। প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং মাঠপর্যায়ের প্রকৃত স্টেকহোল্ডারদের বাদ দিয়ে নীতিমালা তৈরির সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই ক্ষমতার শীর্ষে যারা থাকবেন, তারা দেয়ালের লিখন পড়বেন এবং সরাসরি স্টেকহোল্ডারদের কথা শুনে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বোঝার চেষ্টা করবেন।

প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স সংক্রান্ত কাজের জন্য যোগ্য ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ এবং একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস উইন্ডো চালু করা এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যেন কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর একচেটিয়া প্রভাব না থাকে, বরং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিরাও যেন সেখানে স্থান পায়। রাজনৈতিক নেতাদের যতোটা ভালো ‘বক্তা’, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো ‘শ্রোতা’ হতে হবে।

ই-কমার্স এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন ফ্রন্টলাইন। এই ২৫-দফা দাবি এবং আনুষঙ্গিক সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ কেবল বৈশ্বিক ডিজিটাল মানচিত্রে শক্তিশালী অবস্থানই নেবে না, বরং কয়েক লাখ পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। আমি প্রচন্ড আশাবাদী একজন মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করি, আমাদের এবারের এই সুযোগের সদ্ব্যবহার আমরা করব। প্রত্যাশা করব নতুন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের হতাশ করবে না।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা কিনলে ডটকম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ই-ক্যাব

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

নতুন আইনে মামলার তদন্ত করবে এপিবিএন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০২

বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর সব বাইকিং রুট
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫০

আরো

সম্পর্কিত খবর