Thursday 17 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নতুন আইনে মামলার তদন্ত করবে এপিবিএন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০২ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৪

এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।

ঢাকা: নতুন আইনের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তবে সব মামলার তদন্ত করবে না এপিবিএন। সরকার, আদালত বা আইজিপির মাধ্যমে ন্যস্ত করা মামলাগুলোই তারা তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নতুন আইনে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিক ও বাস্তবতার কারণে যেসব অপরাধের তদন্তে জেলা পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে এপিবিএন তদন্ত করতে পারবে। আমাদের সশস্ত্র অবস্থান ঠিক আছে। এই সশস্ত্র অবস্থানের মধ্য থেকে আমরা সকল মামলা তদন্ত করব না। আমরা মামলা তদন্ত করব সরকার, আদালত, আইজিপি কর্তৃক যে মামলাগুলো আমাদেরকে ন্যস্ত করা হয় আমরা শুধু সেই মামলাগুলো করব।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সূত্রপাত হয়েছে। দূর-দূরান্তে গিয়ে এসব অপরাধের তদন্ত জেলা পুলিশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের সেখানে তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে এই কার্যক্রমের জন্য আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নতুন আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠনের সুযোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের ভূমিকার বিষয়টিও আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে ডিআইজি শাহজাহান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএনের সদস্য রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন। এত বড় জনগোষ্ঠীর তুলনায় পুলিশের সদস্যসংখ্যার অনুপাতকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।

তিনি বলেন, ১৮ লাখ লোকের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ২২শ লোক। এই রেশিওটা অনেক বেশি এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্প এলাকায় আরও জনবল দেওয়ার পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের প্রধান নজর কোন অপরাধে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এপিবিএন কাজ করবে।

রোহিঙ্গাদের নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানো প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, এপিবিএনের দায়িত্ব মূলত ক্যাম্পের ভেতরের নিরাপত্তা। সমুদ্রসীমা ও সীমান্তে দায়িত্ব পালন করে কোস্টগার্ড, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাহিনী। আমাদের এরিয়া কোনটা? আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের কাজটা করি। আর সমুদ্রের কাজটা করে কোস্ট গার্ড বা সীমান্তের দায়িত্ব পালন করা অন্য সংগঠন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও পুলিশের এখতিয়ার নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরেও পুলিশের এখতিয়ার রয়েছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা এবং অপরাধ দমনের কাজকে আলাদা করে দেখতে হবে। পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বেসামরিক নিরাপত্তা রয়েছে। বিমানবন্দরের কোনো অংশ পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে এমন ধারণার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে।

বিমানবন্দরে সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্তও এপিবিএন করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নতুন আইনে এতে বাধা নেই। বিমানবন্দরে সংঘটিত কোনো অপরাধ হলে, আমরা যদি মনে করি যে এই অপরাধের তদন্ত আমরা করব, তাহলে আমাদের আইনে কোনো বাধা নেই। বিমানবন্দরের এপ্রন, আউটার বা অন্যান্য এলাকায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকবে। আইনে যে দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী প্রত্যেক সংস্থা কাজ করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আইনে যা বলা আছে, আইন অনুযায়ীই আমরা কাজ করব।

এপিবিনের গত আগস্ট মাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন, তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ৫৭২ জন। এছাড়া বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২টি ইয়াবা, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের ও ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এ ঘটনায় ১৭টি মামলা ও ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪৮৩টি মামলায় ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা ও অভিযানে আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। বিক্রয় নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা করে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ক্যাম্প এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাচালানি ও অবৈধ পণ্যও উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে। আগস্টে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন মোট ৪৩টি জিআর/সিআর মামলা দায়ের করেছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন আইনে মামলার তদন্ত করবে এপিবিএন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০২

বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর সব বাইকিং রুট
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫০

আরো

সম্পর্কিত খবর