Saturday 26 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ থাকা বেরোবির ভবন নির্মাণ শুরু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুর: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১০ তলাবিশিষ্ট ছাত্রী হল এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ আবারও শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে ৭৭ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

উপাচার্য বলেন, ‘প্রাক্তন প্রশাসনের দুর্নীতির দায়ে ভবনগুলোর কাজ বন্ধ ছিল। হল এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পুনরায় অনুমোদন দেয়। আগের ফান্ডের টাকা এবং নতুন করে ৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আপাতত পাঁচতলা পর্যন্ত সম্পন্ন করা হবে, বাকিটুকু পরে।’

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের অধীনে ছাত্রী হল (তৎকালীন নাম ‘শেখ হাসিনা হল’) এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট) নির্মাণকাজ ২০১৯-২০ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায়। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল শেখ হাসিনা হলের জন্য ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ড. ওয়াজেদ ইনস্টিটিউটের জন্য ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে যথাক্রমে ১০৬ কোটি ৯৩ লাখ এবং ৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা হয়। দুর্নীতির উদ্দেশ্যে প্রকল্পের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) পরিবর্তন করে ভবনের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার অভিযোগও উঠেছিল।

এই দুইটি উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের জুন মাসে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন সাবেক দুই ভিসি কলিমুল্লাহ ও এ. কে. এম. নূর উন নবীসহ অন্যরা।

এরপর ওই বছরের ৭ আগস্টে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সেই মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৭৭ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদিত হয়। এই বরাদ্দের মাধ্যমেই প্রকল্প পুনরায় চালু হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, ‘এই কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট অনেকাংশে কমবে এবং গবেষণা কার্যক্রমে গতি আসবে।’

রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।

শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও দীর্ঘদিনের বিলম্বের জন্য প্রশাসনের সমালোচনাও করছেন অনেকে।

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর