Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ সেই নারীর মরদেহ উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৩
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শিশুসন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হওয়া কোহিনুর আক্তার (৩২) নামের সেই নারীর মরদেহ হাসপাতালের লিফটের নিচের গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে হাসপাতালের লিফটের নিচে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, কোহিনুর আক্তার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং নিও জানান, হাসপাতালের সর্বসাধারণের ব্যবহৃত একটি লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে এর উৎস খুঁজতে গিয়ে লিফটের নিচের গর্তে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্বজনদের জানানো হয় এবং পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে কীভাবে ওই নারী সেখানে পড়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ কোহিনুর আক্তার তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে (৫) অসুস্থ অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় মা ও মেয়ে দুইজনই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। পরদিন ৪ মার্চ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কোহিনুর ওষুধ আনার কথা বলে পঞ্চম তলা থেকে নিচে নামেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার শ্বশুর আলী আকবর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

কোহিনুরের স্বামীর ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চারদিন ধরে কোহিনুর আক্তারের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা হয় এবং বিষয়টি পুলিশ ও র‍্যাবকে জানানো হয়েছিল। পরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি চতুর্থ তলার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। মামুন দাবি করেন, এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা উচিত।

এ ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, চারদিন ধরে একটি মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা জানতে পারেনি। এটি চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ‘লিফটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি যাচাই করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না। সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কীভাবে ওই নারী লিফটের নিচে পড়লেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর