Saturday 17 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে: জামায়াত আমির

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৬

ঢাকা: কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’- শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. এবিএম মাহবুব ই ইলাহী (তাওহীদ)।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সমাজ চলছে গোজামিলের মধ্য দিয়ে। আমরা অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেই না। মনে রাখবেন, পাপ বাবকেও ছাড়ে না। সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় তেলের ওপর ভাসছে দেশ। রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণেই দেশে তেলের সংকট।’

আমির বলেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এটা যেন ভুলে না যাই। সমাজে যার যেটুকু পাওনা, দিতে হবে। দেশ-জাতির জন্য পাওনা পরিশোধ করতে পারলে হাশরের ময়দানে আল্লাহ হিসাব সহজ করে দেবেন। প্রত্যেক মানুষ যদি আল্লাহর ভয়ে তার দায়িত্ব পালন করে, তাহলে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদে প্রতিটি মিনিটে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। সুতরাং জনগণের ট্যাক্সের টাকা জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে সামান্য কিছু করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি। অতীতে হোক না হোক আমরা যেন এর চর্চা করতে পারি। বলবো না সব বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত ভাল কিছু ডেলিভারি দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।’

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।’

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ। দেশ পরিচালনায় স্লোগানের সঙ্গে বাস্তবায়নের মিল নেই। আন্তর্জাতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না দেশ।’

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর