Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

রাজশাহীর দাউদকান্দি কলেজের সেই শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তের নির্দেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫৯
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

রাজশাহী: রাজশাহীর দাউদকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা (প্রদর্শক) আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক প্রফেসর আসাদুজ্জামান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দ্রুত প্রতিবেদন তলব করেছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দাউদকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

পরিচালক জানান, তিনি সরাসরি উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আজই মাউশি থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ইস্যু করা হবে। ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানতে তিনি দাউদকান্দি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের উভয়কেই আজকের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রফেসর আসাদুজ্জামান জানান, এসব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরপরই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের নিকট পাঠানো হবে। এছাড়াও, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও একটি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

এদিকে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় দাউদকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে দাওকান্দি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অপশাসন এবং শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। কলেজের একজন ডেমোনস্ট্রেটর (প্রদর্শক) আলেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় অপমান এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অবিলম্বে তার অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকের বক্তব্য, গত ২৩ তারিখ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘উস্কানিদাতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অপমান করা হয়। এছাড়া, কলেজের অধ্যক্ষ কয়েকজন শিক্ষকের চলতি মাসের বেতন, ঈদের বোনাস এবং শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামনে ঈদ উপলক্ষ্যে কলেজের প্রায় ১০০টি গরীব পরিবারের কথা চিন্তা করে একজন শিক্ষক এর প্রতিবাদ জানালে, আলেয়া খাতুন হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হন এবং অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। অধ্যক্ষের উপস্থিতিতেই তিনি সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সকল শিক্ষকদের সঙ্গে এমন অবমাননাকর আচরণ করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

কলেজে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন শিক্ষকরা। তারা স্পষ্ট জানান, ১৯৭২ সাল থেকে এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং এখানে কোনো ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় কোনো ভালো মানুষের সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় লোকজন একসঙ্গে এলে সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘চাঁদাবাজি’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকরা আলেয়া খাতুন এবং কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক এর দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন। একইসঙ্গে, আলেয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য ও রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর