বান্দরবান: বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমার বগালেক সড়কে অবস্থিত দেশের অন্যতম সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গ্রাম মুনলাই পাড়ায় পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নবনির্মিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।
বুধবার (৬ মে) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নেতা হেডম্যান সা শৈ প্রু রুমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় হেডম্যান, কারবারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় অভিভাবকরা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এতদিন তাদের সন্তানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দূরের স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তো। নতুন এই বিদ্যালয় ভবন তাদের শিশুদের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করবে।
প্রায় ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মুনলাই পাড়া বান্দরবানের রুমা উপজেলার একটি সুসংগঠিত ও পরিচ্ছন্ন গ্রাম। রুমা বাজার থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বগালেক যাওয়ার পথে এর অবস্থান।
বম সম্প্রদায়ের অধ্যুষিত এই গ্রামটিতে মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীরও বসবাস রয়েছে। গ্রামটি তার পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য দেশজুড়ে সুপরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন নিজেদের উদ্যোগে গ্রাম পরিষ্কার রাখেন।
২০১৯ সালে এটিকে দেশের সবচেয়ে গোছানো গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ৭০টি বম পরিবারসহ আশপাশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবারের বসবাস।
মুনলাই পাড়া বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি-বেসড ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। পর্যটকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে। বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই গ্রামটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। চোখ জুড়ানো মেঘ-পাহাড়, নির্মল পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে মুনলাই পাড়া এরই মধ্যেই দেশের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এ গ্রামের বাসিন্দারা ঘরে তালা ব্যবহার করেন না, কারণ এখানে চুরি বা অপরাধের ঘটনা নেই বললেই চলে।
নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি মুনলাই পাড়ার শিশুদের জন্য যেমন শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, তেমনি এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।