Friday 25 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বৃস্টি ভেজা পথে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর সহজ কৌশল

সারাবাংলা ডেস্ক
৯ মে ২০২৬ ১৭:২৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বর্ষার অঝোর ধারা প্রকৃতিকে সজীব করলেও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য রাস্তা করে তোলে মৃত্যুফাঁদ। ভেজা পিচে টায়ারের ঘর্ষণ ক্ষমতা বা গ্রিপ নাটকীয়ভাবে কমে যায়, ফলে সাধারণ ব্রেকিং পদ্ধতি এখানে কার্যকর হয় না। বৃষ্টির দিনে চাকা স্লিপ করা রুখতে এবং বাইকের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নিচের বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন।

আকস্মিক ব্রেকিংকে ‘না’ বলুন

শুকনো রাস্তায় যেভাবে হুটহাট ব্রেক করা যায়, ভেজা রাস্তায় তা করা আত্মঘাতী। হঠাৎ জোরে ব্রেক চাপলে চাকা মুহূর্তেই লক হয়ে যায় এবং বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে আছাড় খায়। তাই ব্রেক লিভার বা প্যাডেল ব্যবহারের সময় অত্যন্ত কোমল হোন।

বিজ্ঞাপন

ডুয়াল ব্রেকিং সিস্টেমের সঠিক প্রয়োগ

নিরাপদ থামার মূলমন্ত্র হলো সামনের ও পেছনের ব্রেকের সমন্বয়। তবে মনে রাখবেন, বৃষ্টির দিনে সামনের ব্রেক (Front Brake) অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। তাই ৭০% পেছনের ব্রেক এবং ৩০% সামনের ব্রেক—এই অনুপাতে ধীরে ধীরে চাপ প্রয়োগ করুন। এটি বাইকের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

মেকানিক্যাল সাপোর্ট বা ‘ইঞ্জিন ব্রেকিং’

ভেজা রাস্তায় শুধুমাত্র ব্রেক লিভারের ওপর ভরসা না করে ‘ইঞ্জিন ব্রেকিং’ ব্যবহার করুন। বাইকের গতি কমাতে এক এক করে গিয়ার ডাউন করুন। থ্রটল ছেড়ে দিয়ে গিয়ার কমিয়ে আনলে ইঞ্জিনের নিজস্ব চাপ চাকার গতি কমিয়ে দেবে, যা স্কিড করার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

বাফার জোন বা বাড়তি ফাঁকা জায়গা রাখা

বৃষ্টির সময় ব্রেক করার পর বাইক থামতে সাধারণের চেয়ে বেশি সময় ও দূরত্ব নেয়। তাই আপনার সামনের যানবাহনের থেকে অন্তত ৩-৪টি বাইকের সমপরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখুন। এতে জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ ব্রেকিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

বাঁক নেওয়ার সময় সতর্কতা

রাস্তার মোড় ঘোরার সময় বা কর্নারিং করার সময় ভুলেও ব্রেক করবেন না। মোড়ে প্রবেশের আগেই গতি কমিয়ে নিন। বাঁক নেওয়া অবস্থায় চাকা সামান্য বাঁকা থাকে, সেই মুহূর্তে ব্রেক চাপলে মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে বাইক খুব দ্রুত পিছলে যায়।

রাস্তার পিচ্ছিল অংশ এড়িয়ে চলা

রাস্তার ওপর থাকা সাদা রং (জেব্রা ক্রসিং), ধাতব ম্যানহোলের ঢাকনা বা কাদা জমে থাকা অংশ বৃষ্টির সময় সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে যায়। ব্রেক করার প্রয়োজন হলে কালো পিচঢালা রাস্তার ঘর্ষণ ব্যবহার করুন, এই চিহ্নিত অংশগুলো এড়িয়ে চলুন।

টায়ারের গ্রিপ ও বায়ুচাপ পরীক্ষা

ভালো ব্রেকিংয়ের পূর্বশর্ত হলো টায়ারের সুস্বাস্থ্য। বর্ষায় টায়ারের থ্রেড বা বিট ক্ষয়ে গেলে তা পানির লেয়ার কাটতে পারে না (একে হাইড্রোপ্ল্যানিং বলে)। বৃষ্টির দিনে টায়ারের প্রেশার নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে ১-২ পিএসআই (PSI) কমিয়ে রাখলে রাস্তায় টায়ারের কন্টাক্ট প্যাচ বাড়ে, ফলে গ্রিপ ভালো পাওয়া যায়।

বৃষ্টির রাইডিংয়ে সাহসের চেয়ে কৌশলের দাম বেশি। গতির নেশা ত্যাগ করে নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিলে প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

পিরোজপুরে আগুনে পুড়ল ৬ দোকান
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:০৬

আরো