জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম আর পরিবেশ রক্ষার তাগিদে বর্তমানে বৈদ্যুতিক স্কুটার (E-Scooter) হয়ে উঠেছে যাতায়াতের আদর্শ বাহন। তবে ঝকঝকে লুক বা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আপনার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা স্কুটারটি যেন টেকসই এবং নিরাপদ হয়, সেজন্য ৫টি প্রযুক্তিগত দিক যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
আসুন জেনে নেই ই-স্কুটার কেনার আগে কিছু জরুরি বিষয়…
ব্যাটারির সক্ষমতা ও বাস্তব রেঞ্জ (Range)
স্কুটারের হৃৎপিণ্ড হলো এর ব্যাটারি। বিক্রেতারা অনেক সময় এক চার্জে ১০০ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি করলেও বাস্তবে তা ওজন ও রাস্তার ওপর নির্ভর করে কমে আসে।
পরামর্শ: কেনার আগে ব্যাটারিটি লিথিয়াম-আয়ন কি না তা নিশ্চিত করুন। শহরের যানজট ও বারবার ব্রেক করার বিষয়টি মাথায় রেখে বাস্তব মাইলেজ (Real-world range) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন।
মোটরের কার্যক্ষমতা ও টপ স্পিড
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলার জন্য স্কুটারের গতি অন্তত ৪০-৬০ কিমি/ঘণ্টা হওয়া প্রয়োজন। মোটরের ওয়াট যত বেশি হবে, স্কুটারের শক্তি বা ‘পিকআপ’ তত ভালো হবে।
মনে রাখুন: আপনি যদি ফ্লাইওভার বা ঢালু রাস্তায় যাতায়াত করেন, তবে শক্তিশালী মোটর বেছে নিন। তবে ২৫ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতির স্কুটারের ক্ষেত্রে বিআরটিএ-র লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়মগুলো আগেভাগেই জেনে নিন।
চার্জিং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা
চার্জ হতে কত সময় লাগে, সেটি ই-স্কুটারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে পাবলিক চার্জিং স্টেশন এখনো সীমিত।
যাচাই করুন: স্কুটারটিতে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা আছে কি না। এছাড়া ব্যাটারিটি কি রিমুভেবল (খুলে নিয়ে বাসায় চার্জ দেওয়া যায়)? যদি তাই হয়, তবে উঁচু তলায় বসবাসকারীদের জন্য এটি বাড়তি সুবিধা দেবে।
নিরাপত্তা: ব্রেকিং এবং ওয়াটারপ্রুফ রেটিং
নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ভালো মানের ব্রেকিং সিস্টেমের বিকল্প নেই। ড্রাম ব্রেকের চেয়ে ডিস্ক ব্রেক অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ।
বিশেষ সতর্কতা: বাংলাদেশের বর্ষাকাল ও জলাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে স্কুটারটির IP (Ingress Protection) রেটিং যাচাই করুন। ব্যাটারি এবং মোটর কতটুকু পানিরোধী, তা নিশ্চিত না হয়ে স্কুটার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসিং নেটওয়ার্ক
ই-স্কুটারের ব্যাটারি পরিবর্তন করা বেশ ব্যয়বহুল। তাই ব্যাটারি এবং মোটরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী (অন্তত ২-৩ বছর) ওয়ারেন্টি আছে কি না দেখে নিন।
জরুরি বিষয়: আপনার এলাকায় ওই ব্র্যান্ডের অথরাইজড সার্ভিস সেন্টার এবং খুচরা যন্ত্রাংশ (Spare parts) সহজে পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত হয়ে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।