ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দোকানের ভ্যাট–সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে বলায় পরিদর্শককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সবুজ মিয়া নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দুর্গারামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, দুর্গারামপুর এলাকার ‘মেসার্স আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজে’ যান ভ্যাট পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। সেখানে তিনি নিজের ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক হাবিবুর রহমানের কাছে ভ্যাট-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখতে চান।
এ সময় সরকারি ছুটির দিনে দায়িত্ব পালন করায় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান তাকে ভুয়া সন্দেহ করেন। পরে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
এ সময় মো. সবুজ মিয়া নামে একজন এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন জানান, দুপুরে সাইফুল ইসলাম নামের একজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপরে ভেঙে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে তিনি হাবিবুর রহমানের দোকানে যান। সে সময় ভ্যাটের নিবন্ধন আছে কি না, ব্যবসায়ীর কাছে তা জানতে চান। ব্যবসায়ীর দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানানো হয়। একটি ‘মেসার্স আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজ’ ও অন্যটি ‘ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল’। কাগজপত্র দেখাতে বললে হাবিবুর ‘শনিবার বন্ধের দিনে কিসের অফিস? আপনি সরকারি কর্মকর্তা, নাকি ভুয়া?’—এ ধরনের কথা বলতে থাকেন। পরিচয় দিয়ে ভিজিটিং কার্ড দেখালেও হাবিবুর কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেন। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
সাইফুল ইসলাম আরও জানান, তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সবাই তাকে চেনেন। এসব বলার পরও রেহাই পাননি।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, আহত ভ্যাট পরিদর্শককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।