Sunday 10 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হলে অসুস্থ শতাধিক শিক্ষার্থী, জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন

কানজুল কারাম কৌষিক, ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
১০ মে ২০২৬ ২২:০৯ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ২৩:৩৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে গত কয়েকদিন ধরে ‘পানিবাহিত’ রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। রোববার (১০মে) পর্যন্ত জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে অন্তত ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে ‘ডায়রিয়া ও বমি’র চিকিৎসা নিয়েছেন।

মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার তানভীর আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই দিনে প্রায় ৬০ জনের মতো নারী শিক্ষার্থী আমাদের মেডিকেলে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশ ডায়রিয়া ও বমিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে আজ রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় আমরা হলেই ক্যাম্প বসিয়েছি। আমাদের দু’জন ডাক্তার সেখানে কাজ করছেন।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত ডায়রিয়াজনিত সমস্যাগুলো পানি ও খাবারের কারণে হয়ে থাকে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে হলের শিক্ষার্থীদের ধারণা, পানিবাহিত কারণে এ রোগ হয়েছে। এর আগেও পানির ফিল্টার নিয়ে নানান অসঙ্গতি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এ বিষয়ে কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন সারাবাংলাকে বলেন, ‘পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর পানি থেকে ব্লিচিং ব্লিচিং গন্ধ আসে, মুখ ধুতে গেলে বা মুখে পানি নিয়ে কুলি করতে গেলেও ব্লিচিংয়ের গন্ধে বমি আসে! গোসলের পানিতেও একই সমস্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালা ওয়াশরুম ক্লিন করতে এসে ব্লিচিং ছড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। সেগুলো আর পানি দিয়ে ধুয়ে ক্লিন করে রেখে যায় না। ওয়াশরুম ক্লিন করতে এসে তাদের এতই তাড়া থাকে যে, পানি দিয়ে ধুয়ে যাওয়ার সময় ব্লিচিং ছিটিয়ে রেখে যায়। এতে করে কি ক্লিন হয়? আর এভাবে কি জীবাণু মরে?’ টয়লেটে হারপিক কালে-ভদ্রে ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।

জুয়েনা বলেন, ‘খাবারের পানির ট্যাংক থেকেও ব্লিচিংয়ের গন্ধ আসে। ট্যাংকের চারপাশে পোকার বসবাস। ব্লিচিং দেয় জীবাণুমুক্ত করার জন্য। কিন্তু, সেগুলো ভালোভাবে ক্লিন না করলে আমাদের পেটে গিয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।’

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পানির কারণে তাদের এমন সমস্যা হয়েছে। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজরিন আমিনও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের একজন। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকেই আমি অসুস্থ। তবে সমস্যাটা শুরু হয়েছিল চার-পাঁচ দিন আগেই। গত দু’দিনে তা আরও বেড়েছে। আমার মনে হচ্ছে, ক্যান্টিনের খাবার ও পানি-ই এর জন্য দায়ী। ক্যান্টিনের রান্নার সরঞ্জাম, পরিবেশ— সবকিছুই অপরিচ্ছন্ন।’

তার অভিযোগ, ‘এসব বিষয় নিয়ে বারবার বলা হলেও হল সংসদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া কয়েকজনের কাছ থেকে শুনেছি, যারা ক্যান্টিনের খাবার খান না, তারাও অসুস্থ হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, সমস্যার মূল কারণ সম্ভবত ক্যান্টিনের পানি। আমার ক্ষেত্রেও সম্ভবত পানির কারণেই হয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সবাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পানি কিনে খাচ্ছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি রাফিয়া রেহনুমা হৃদির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। হল সংসদের জিএস নিশিতা জামান নিহা সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যেদিন থেকে সমস্যাটি দেখা দেয়, সেদিন থেকেই মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে প্রোভোস্ট ম্যামের উদ্যোগে হলে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়েছে।’ হলে সুপেয় পানির ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, ‘হলের পানির সব ফিল্টার সংস্কার করা হয়েছে।’

এ সব বিষয়ে জানতে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবা সুলতানাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

উপাচার্যের হল পরিদর্শন

এদিকে ছাত্রীদের অসুস্থতার খবর পেয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শনিবার (৯ মে) রাতে হল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অসুস্থ ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হল প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘হলের পানি ও খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য এরই মধ্যে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে হলে জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।’