Tuesday 12 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

গভর্নরকে স্মারকলিপি
সব ব্যাংক লুটপাটের বিচার চায় ‘ভয়েস অব লইয়ার্স বাংলাদেশ’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৬:৪২ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৭:৪৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লইয়ার্স বাংলাদেশ’।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংঘবদ্ধভাবে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের কারণে সাধারণ আমানতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংক খাত এখন গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। অনেক গ্রাহক নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার বা ৫ হাজার টাকা তুলতে পারলেও অনেকে কোনো টাকাই পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাওয়া এক ক্যানসার রোগী নিজের হিসাবে থাকা দেড় কোটি টাকাও তুলতে পারেন নি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ২৮ এপ্রিল গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। পরে তাদের স্মারকলিপি গভর্নরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

ভয়েস অব লইয়ার্স বাংলাদেশ-এর চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

তার দাবি, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার হয়েছে। ওই অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের দাবি জানান তিনি।

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন বক্তারা। তাদের অভিযোগ, আইনের কিছু ধারা অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানান তারা।

বক্তারা বলেন, ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থাকে দুর্বল ও বিতর্কিত করতে দেশীয়-আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা চান, ইসলামি ব্যাংক খাত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুক, যাতে আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারেন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল থাকে।

স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।