Tuesday 12 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

রান্নাঘরের বাসন মাজার স্পঞ্জই ছড়াচ্ছে না তো রোগ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১২ মে ২০২৬ ১৬:৩৯

সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পরিষ্কার রান্নাঘর। আমরা ঘরের থালাবাসন ধোয়ার জন্য দামী লিকুইড বা সাবান ব্যবহার করলেও, যে স্পঞ্জটি দিয়ে মাজছি সেটির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খুব কমই ভাবি। দিনের অধিকাংশ সময় ভেজা থাকা এবং খাবারের কণা আটকে থাকার ফলে এই স্পঞ্জ হয়ে ওঠে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন কেন্দ্র। ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত স্পঞ্জ না বদলানোর অভ্যাসটি আসলে রোগবালাইকে লালন করার মতো বিষয়। তাই রান্নার জায়গাটিকে জীবাণুমুক্ত রাখতে স্পঞ্জের সঠিক যত্ন ও পরিবর্তনের সময়কাল জানা অত্যন্ত জরুরি।

কখন বুঝবেন স্পঞ্জটি বিদায় করার সময় হয়েছে?

একটি স্পঞ্জ ঠিক কতদিন ব্যবহার করা নিরাপদ, তা কয়েকটি লক্ষণের ওপর নির্ভর করে। আপনার রান্নাঘরের স্পঞ্জটি কি নিচের অবস্থায় রয়েছে?

বিজ্ঞাপন

নির্দিষ্ট সময়কাল অতিক্রম করা: ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে একটি স্পঞ্জ বড়জোর এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করা উচিত। প্রতিদিন কয়েকশ বাসনের সংস্পর্শে আসা এই ক্ষুদ্র বস্তুটি বাইরে থেকে ভালো দেখালেও এর ভেতরে অসংখ্য ক্ষতিকর অণুজীব বাসা বাঁধে।

অস্বস্তিকর দুর্গন্ধ: যদি স্পঞ্জ থেকে ভ্যাপসা বা পচা গন্ধ আসে, তবে বুঝবেন এতে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় এটি দিয়ে বাসন মাজলে পরিষ্কার হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো বাসনে দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

আকার ও বাঁধন নষ্ট হওয়া: ব্যবহারের ফলে স্পঞ্জ যখন চ্যাপ্টা হয়ে যায় বা এর বুনন আলগা হয়ে ছিঁড়তে শুরু করে, তখন এটি আর কার্যকর থাকে না। ছিঁড়ে যাওয়া অংশে খাবারের ছোট কণা আটকে পচন ধরে, যা কোনোভাবেই পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্পঞ্জের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ

সাধারণ কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে আপনি আপনার রান্নাঘরকে আরও নিরাপদ রাখতে পারেন…

জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতি: স্পঞ্জটি দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ রাখতে ব্যবহারের পর প্রতিদিন গরম পানিতে ফুটিয়ে নিন। এছাড়া লেবুর রস মেশানো পানিতে স্পঞ্জ ভিজিয়ে মাইক্রোওয়েভে এক মিনিট গরম করলেও অধিকাংশ জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। তবে মনে রাখবেন, এটি কেবল সাময়িক সমাধান, পরিবর্তন করার বিকল্প নয়।

কাজের ক্ষেত্র আলাদা রাখা: সিঙ্ক পরিষ্কার, চুলার চারপাশ মোছা এবং থালাবাসন মাজার জন্য আলাদা আলাদা রঙের স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। একই স্পঞ্জ দিয়ে সব পরিষ্কার করলে এক জায়গার জীবাণু অন্য জায়গায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শুকনো রাখা নিশ্চিত করা: ব্যবহারের পর স্পঞ্জটি ভালোভাবে চিপে পানি বের করে দিন এবং এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

পরিচ্ছন্নতা কেবল দেখার সৌন্দর্যে নয়, বরং স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় নিহিত। রান্নাঘরের চকচকে মেঝে বা ঝকঝকে বাসন কোনো কাজে আসবে না যদি আপনার পরিষ্কার করার প্রধান উপকরণটিই দূষিত থাকে। তাই রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুরনো স্পঞ্জ ত্যাগ করুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, সামান্য সচেতনতা আর একটি নতুন স্পঞ্জই পারে আপনার পরিবারকে বড় ধরনের ফুড পয়জনিং বা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে।