Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুর্নীতির মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ মে ২০২৬ ১৪:৪০

সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করলেও ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন গ্রহণ করেননি। তবে বিদেশ ভ্রমণে তার কোনো বাধা নেই বলেও আদালত আদেশ দিয়েছেন।

এদিন সকালে আদালতে হাজির হন আনিস আলমগীর। পরে তার পক্ষে স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ এবং বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুটি আবেদন মঞ্জুর করলেও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি-২ এলাকায় একটি ব্যায়ামাগার থেকে বের হওয়ার পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করে। এরপর ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে গত ১১ মার্চ এ মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তার ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

দুদকের হিসাবে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। বিপরীতে বৈধ উৎস থেকে তার আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয়, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয়, প্লট বিক্রি এবং ব্যাংক সুদ ও সঞ্চয়পত্রের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য মিলেছে, যা দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ।

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায়ও আনিস আলমগীরকে জামিন দেন উচ্চ আদালত।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর