Tuesday 20 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশুসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯

হামলার ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন লোকজন। ছবি আল জাজিরার ভিডিও থেকে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। এতে একটি শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এ নিষ্ঠুর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, নারী ও শিশুসহ ৫০ জনেরও বেশি হতাহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রেস টিভি জানিয়েছে যে, অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা হোসেইন কেরমানপুর এক্স-এ লিখেছেন, ‘মৃতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ভবনের দেয়াল ও জানালা উড়ে গেছে এবং মাটিতে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই মানবিক সংস্থাটি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন শিশুর ছবিও প্রকাশ করেছে।

সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শাহিদিয়ান পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-কে জানান যে, ৬৩ জন আহত হয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু।

তিনি বলেন, আহতদের সবাইকে নিকটবর্তী শহর মিনাবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’।

আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিও বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বিবরণ প্রকাশ করেছে।

ভিডিওতে শিশুটি জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পেয়েছিল।

সে বলে,‘আমরা সেখানে পৌঁছানোর পর একটি বিস্ফোরণ ঘটল। এটি ছিল খুবই তীব্র। ইট, পাথর ও সিমেন্ট আমার মুখে ও মাথায় এসে লাগে এবং আরও অনেকে আহত হন। সবাই ছিলেন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।’

এই প্রতিবেদনগুলো এমন সময়ে এসেছে যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর’ বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হামলার চেষ্টার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন পাতার সক্ষমতা এবং যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

সপ্তাহান্তে গোলাগুলি বিনিময়ের পর এই হামলাগুলো চালানো হলো। হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই এই হামলাগুলো চালানো হলো। উল্লেখ্য, ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডান, বাহরাইন এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদে হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নিয়েছে। কুয়েতও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর দিয়েছে।

ইরানের মুখপাত্র বাঘাই বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘এই নিষ্ঠুরতাকে এর আগে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার শৃঙ্খল থেকে আলাদা করা যায় না।’

তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব ও লামার্দ শহরে হামলার দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেছেন। মিনাবে মার্কিন বাহিনী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে এবং লামার্দে তারা একটি ক্রীড়া হলে হামলা চালিয়ে অন্তত ২১ জনকে হত্যা করে।

বাঘাই বলেন, ‘ইরান এই বর্বর অপরাধের কঠোর জবাব দেবে। তবুও, যে সমস্ত সরকার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এই ধরনের বর্বরতার মুখে নীরব থাকে, বা এই ধরনের কাজকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে তাদের নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়।’

কুহেস্তাক ছাড়াও, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে যে কোনারাক, বন্দর আব্বাস, জাস্ক, আসালুয়েহ এবং আহভাজসহ আরও কয়েকটি উপকূলীয় শহর এবং কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর