Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৮ মাসে বিজিবির অভিযানে ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫২

জব্দকৃত পণ্য।

নেত্রকোনা: ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ৮ মাসে বিজিবির নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে। দুই দেশের সীমান্তে চোরাচালান তুলনামূলকভাবে কমলেও একেবারে থেমে যায়নি।

নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী পিএসসি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বলেন, ‘দুই দেশের চোরাচালান সম্পর্কে অবহিত আছে সীমান্তের বিজিবি। আমাদের সীমান্তজুড়ে রয়েছে প্রায় ৯২ কিলোমিটার এলাকা। এই এলাকায় নজরদারির জন্য রয়েছে মাত্র ১৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি)। তবু এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিজিবি জোয়ানরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। তারা নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘জেলার সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন, অবৈধ অস্ত্র, ভারতীয় মাদক চোরাচালানসহ সীমান্ত রক্ষায় সর্বদাই তৎপর রয়েছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। একদিকে প্রয়োজনীয় জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট ও রাস্তাঘাট না থাকায়, অপরদিকে বিশাল দুর্গম এলাকা পাহারা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তারপরও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩১ বিজিবি সজাগ ভুমিকা রাখছে।’

তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তে সীমিত জনবলের কারণে বিজিবির জোয়ানদের উপেক্ষা করে মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্ডাল, গাঁজা, গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাশঁ, কয়লা, চিপস্, ক্যামিকেল, শাড়ি, লেহেঙ্গাসহ নানা ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী পাচার হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে তা অনেকটাই কমে গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত ৮ মাসে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ২,৯৮৬ বোতল ভারতীয় মদ, ৬০ বোতল বিয়ার ক্যান, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪২৮ পিস ইয়াবা, ৪৯ বোতল এস্কাফ সিরাপ ও ৮৪ পিস ট্যাপেন্ডাল; যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ টাকা।

দুই দেশের সীমান্তে অন্যান্য চোরাচালানের মধ্যে রয়েছে গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাশঁ, কয়লা, চিপস্, ক্যামিকেলস্, শাড়ি, লেহেঙ্গা ও প্রসাধনী সামগ্রী; যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ টাকা। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট বাজারমূল্য ১০ কোটি ৯২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ টাকা। এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১৭ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়াও তিনি জানান, অভিযানের পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সচেতন মহলের দাবি, জেলার দুই দেশের সীমান্তে মাঝেমধ্যে ক্ষুদ্র বন্দর স্থাপন করলে একদিকে যেমন চোরাচালান বন্ধ হবে, অপরদিকে দুই দেশের সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বন্দর স্থাপন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

যশোরে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৪৯

আরো

সম্পর্কিত খবর