পরিবেশ সংগঠন ‘Clean & Green Campus – Titumir’-এর উদ্যোগে এবং ‘ক্যাম্পাস আমার, পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমার’ স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি তিতুমীর কলেজে পালিত হয়েছে ‘International Day of Clean Air for Blue Skies 2026’। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নির্মল বায়ুর গুরুত্ব অনুধাবন করে ‘রানিং ফর ক্লিন এয়ার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এটি আয়োজিত হয়।
৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বেলা সাড়ে ১২টায় তিতুমীর কলেজের শহীদ বরকত মিলনায়তনের সামনে জলপাইতলায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্লাবের মডারেটর ময়েজ মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং পরিবেশকর্মী সিনথিয়া জুহির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আসমা বেগম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাইমা আক্তার এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাফিয়া সুলতানা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে তিতুমীর কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন আহমদ বলেন, মানবজীবনে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হচ্ছে পরিবেশ। আর এই পরিবেশ নিয়েই আজকের অনুষ্ঠান। আজকের এই আয়োজন আমাদের নিজেদের মধ্যে লালন করা দরকার। পরিবেশটাই আমাদের সবচেয়ে আপন জায়গা। কাজেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম, যারা আসবে, তারা যেন একটি বিশুদ্ধ পরিবেশ পায়, তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দর ও সবুজ পরিবেশ যেন আমাদেরই হয়, সে বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ক্লাবের মডারেটর ময়েজ মাহমুদ বলেন, ‘পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই। পরিচ্ছন্ন বাতাস, সুস্থ জীবন, সুন্দর ভবিষ্যৎ—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসকে সবসময় পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখব। একটি নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলার এই যাত্রা আমাদের সবার যৌথ প্রচেষ্টাতেই সম্ভব।’
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. আসমা বেগম বলেন, ‘বায়ুদূষণ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে। এটি মানুষের মানসিক বিকাশে বাধা প্রদান করে। আমাদের মধ্যে যারা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ, তারাই বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় শিকার। এই সংকট থেকে কীভাবে উত্তরণ হওয়া যায়, সে বিষয়ে আমাদের বেশি বেশি সচেতন হতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে আমাদের কাজ করতে হবে।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাফিয়া সুলতানা বলেন, ‘এই রকম প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম যে পরিবেশ নিয়ে ভাবে, সেটা এই অনুষ্ঠানে না এলে আমার জানা হতো না। আমরা আধুনিকতাকে যেমন বরণ করে নেব, তেমনি পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হব। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটু সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে আমরা কাজ করব।’
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাইমা আক্তার বলেন, ‘পরিবেশদূষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের মূল কারণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পাওয়া। আর এর জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। এর থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগানো উচিত।’
‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস–তিতুমীর-এর প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ পাবেল বলেন, এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বায়ুদূষণের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা এবং এর ভয়াবহতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এবং বিজয়ীদের গাছ উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি হয়।