Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: রিজভী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৪০ | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকা: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সরকারের তৈরি নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে ঘিরে সংঘাত, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে সংকট সমাধানে সরকার বসে নেই।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সংকট সমাধানের পথও দেখাতে হবে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।’

গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, ‘আগের সরকার এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের কর্মকাণ্ডকে দায়মুক্তি দিতে ইনডেমনিটি আইনও করা হয়েছিল।’

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, ‘পুলিশ, প্রশাসন, আদালত, গণমাধ্যম, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, জাসাসের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, বিএনপির সহসাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শামিমুর রহমান শামিমসহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর