Sunday 25 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংসের জবাবে জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তেহরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৩ | আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৩

ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিবিসি

গত দুই দিনে তেহরান দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে। এর প্রতিশোধ নিতে তেহরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার এবং ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে আরেকটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিই ভূপাতিত করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার ছয় মাসেরও বেশি সময় পর, গত এক সপ্তাহে দেশ দুটির মধ্যে পালটাপালটি হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জর্ডান সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

ইরান আরও প্রতিশোধমূলক হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তেহরান কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছাকাছি অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারগুলোর কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা ‘অবিলম্বে তাদের জাহাজ ত্যাগ করেন। সেটা নোঙর করা অবস্থায় থাকুক কিংবা বন্দরে অবস্থান করুক কারণ সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’

ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার পর উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, জাহাজটি সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তারা আরও জানায়, এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনার ক্ষতি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছিল বহু-বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি বা সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে।

খার্গ দ্বীপ—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের একটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানেই ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনালটি অবস্থিত।

দেশটির অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মধ্য দিয়ে যায়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এখানে আনা হয়।

এছাড়া, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই হামলায় তেল স্থাপনাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সেখানকার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তেল-বাজারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুর দিকে তেলের দাম বেড়েছে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯.৪১ ডলারে (৭৩.৩৯ পাউন্ড) দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর