ঢাকা: একটি এলএনজি কার্গো ও তিন ক্যাটাগরির সার আমদানিসহ ১২টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’। এর মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ১টি এলএনজি কার্গো ৩টি প্রস্তাবে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার ও ৯ হাজার মেট্রিক টন ছোলা আমদানি এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রাণ অয়েল ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠকে শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির প্রস্তাবিত দর ধরা হয়েছে জেকেএম+০.০৬ ডলার।
বৈঠকে বেসরকারি পর্যায়ে বেলারুশ থেকে ‘মেসার্স সুফলা ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর মাধ্যমে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৩৯৮.৯৭ ডলার দরে এতে ব্যয় হবে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ১০০ ডলার।
অপর দুটি প্রস্তাবের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে বিএডিসি ও মরক্কো’র ‘ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৯.৩৩ ডলার দরে এতে ব্যয় হবে ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় সৌদি আরব-এর ‘সাবিক ‘এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুম্দেন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৩৯১.৬৬ ডলার দরে এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রাণ তেল এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৯ হাজার মেট্রিক টন ছোলা ক্রয়ের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ লিটার পেট বোতলে ৩টি প্রতিষ্ঠান (মজুমদার ব্রাণ অয়েল মিলস লিমিটেড ৬০ লাখ লিটার; গ্রীণ অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডস্ট্রিজ ২০ লাখ লিটার ও প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড ২০ লাখ লিটার) ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রাণ তেল সরবরাহ করবে। প্রতি লিটার ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা দরে এতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, অন্যান্যের মধ্যে পৃথক প্রস্তাবের দুটি প্যাকেজে জাইকার অর্থায়নে ৩৬৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন; ১৪৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেটের সুনামগঞ্জে ২০২২ সালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-সেতু-কালভার্ট পুনঃনির্মাণ; ২৭৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্বব্যাংবের অর্থায়নে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ উন্নয়নে দুটি পৃথক পূর্তকাজের প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।