Wednesday 16 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

১২ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন / বাড়তি দামে বেসরকারি পর্যায়ে ৯ লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন সার কিনবে সরকার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৯ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০১

ঢাকা: জ্বালানি তেল ও এলএনজি কার্গো আমদানি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চুক্তির পাশাপাশি বাড়তি দামে বিভিন্ন দেশ থেকে স্থানীয় আমদানিকারকদের মাধ্যমে সার আমদানিসহ ১২টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ইউনিপেক চায়না, পেট্রোচায়না ও ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া একই প্রস্তাবে জি-টু-জি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির শর্তও শিথিল করা হয়েছে।

বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে ১ কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি সরবরাহ করবে ‘কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি’। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি’র দাম ধরা হয়েছে ‘জেকেএম-০.০২ ডলার’।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় চারটি পৃথক প্রস্তাবে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে বিএডিসি’র মাধ্যমে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা (প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩.৮০ ডলার); মরক্কোর ওসিপি থেকে দুটি পৃথক প্রস্তাবে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৮৭৪ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা (প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৫ ডলার)।
এছাড়া আরেকটি পৃথক প্রস্তাবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বিসিআইসি’র জন্য সৌদি আরব-এর সাবিক থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার (প্রতি মেট্রিক টন ৩৯১.৬৬ ডলার) আমদানি করা করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে আরও তিনটি পৃথক প্রস্তাবে বিভিন্ন দেশ থেকে স্থানীয় আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৯ লাখ ২০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয়ে স্থানীয় ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার (প্রতি মেট্রিক টন ৯৩৮ ডলার দরে), দ্বিতীয় প্রস্তাবে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ ডলার ব্যয়ে ১৪টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার (প্রতি মেট্রিকটন ৩৯৮.৯৭ ডলার দরে) এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ১৫ কোটি ১২ লাখ ডলার ব্যয়ে স্থানীয় ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার (প্রতি মেট্রিকটন ৭৫৬ ডলার দরে) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় এবং দুটি প্রকল্পের পূর্তকাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পৃথক দুটি প্রস্তাবে ২১৫ কোটি টাকা করে মোট ব্যয় হবে ৪৩০ কোটি টাকা।
এছাড়া মূল ক্রয় প্রস্তাবের বাইরে ইতেপূর্বে ক্রয় কমিটিতে অনুমোদিত একটি প্রকল্পের কাজের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব (ভেরিয়েশন) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর