Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বরিশালে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু, পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ স্বামীর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫১ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৭

গ্রেফতার নাদিরা বেগম।

বরিশাল: জেলার বাকেরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে নাদিরা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতে নেওয়ার পথে ওই নারীর মৃত্যু হয়। নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজীর অভিযোগ, তার স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন।

নাদিরা বেগম উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক গাজী ওরফে মন্টু মেম্বারের স্ত্রী।
‎
‎পুলিশ জানিয়েছে, নাদিরার মরদেহ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে ময়নাতদন্ত করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

‎তবে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতে আনার আগে পথে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। একারণে কোন মামলায় তিনি আসামি ছিলেন সেটা আমি জানি না।

‎‎পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইয়াবাসহ নাদিরা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তিনি ইয়াবা গিলে ফেলেন। তখন পাকস্থলি পরিষ্কার করার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে তিনি প্রত্যাখান করেন। পরে আদালতে নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন।

‎এদিকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা বিক্রির ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা ও তিনটি মোবাইলসহ নাদিরাকে গ্রেফতার করা হয়।
‎
‎তবে নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজী দাবি করেছেন তার স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি ২০ বছর ইউপি সদস্য ছিলেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তার জমির বিরোধের মামলা রয়েছে। সেই মামলার পরোয়ানায় তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তাকে না পেয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ঘর থেকে গরু বিক্রির এক লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা, সোনার চেইন, আংটি ও মোবাইল নিয়ে গেছে।

‎এনামুল হক গাজীর অভিযোগ, ‎সেলিম রেজার পক্ষ হয়ে পুলিশ আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। এমনকি থানায় খাবার দিতেও দেয়নি। স্ত্রীকে মেরে ফেলে আমাকে থানায় ডেকেছে। কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্যও হুমকি দিচ্ছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেনকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

‎বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
‎
‎পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কেউ আটক হলে এ নিয়ে নানা ধরনের কথা ছড়াতে পারে। তবে কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায় বা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মাদক নির্মূলে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর