Tuesday 27 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সংসদে প্রধানমন্ত্রী / গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য-প্রতিযোগিতা থাকবে, বৈরিতা কাম্য নয়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:০৬ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৫

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

ঢাকা: পতিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে গণতন্ত্রপন্থী প্রতিটি শক্তির মাঝে কোনো ধরনের বিভেদ রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে পরস্পরের মধ্যে বৈরিতা বা শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিগত অর্থনৈতিক ইতিহাস ও খেলাপি ঋণের বাস্তব চিত্র সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের জুনে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে জুলাই মাসে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের সাধারণ জনগণ বিএনপির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিল এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করেছিল। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই দুঃশাসন, সীমাহীন লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশকে বিশাল ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে।

পূর্ববর্তী সরকারের অর্থনৈতিক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে পতিত সরকার খেলাপির হার মাত্র ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত ফরেনসিক অডিটে প্রকাশ পায় যে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ছিল ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে ইতোমধ্যে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং অতীতের মতো বর্তমান সরকারও দেশের খেলাপি ঋণের অপবাদ দূর করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম হবে।

বৈদেশিক দেনা শোধের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা দেশের নিরীহ জনগণের কাঁধে এসে পড়েছে। দুর্বল ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান সরকার বিগত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার সফলভাবে পরিশোধ করেছে। বিগত আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য খাত, ব্যাংক-বিমা, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অবক্ষয় ঘটানো হয়েছিল। বর্তমানে দেশে অবাধ গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশ বিরাজ করায় বাকস্বাধীনতা সুনিশ্চিত হয়েছে। এই স্বাধীনতার সুযোগে শালীনতার সীমা অতিক্রম না করার জন্য সকলকে বিশেষ যত্নশীল হতে হবে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ভাষা ব্যবহারের শালীনতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে সংসদ নেতা বলেন, যে সকল ভাষা বা শব্দ পরিবারে ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা যায় না, সেগুলো জনপরিসরে পরিহার করা উচিত। রাজনৈতিক গালিগালাজের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বন্ধ করে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে বিরোধী দলসহ সকল অংশীদারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ মূলত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পথ সুগম করে দেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বীর শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিতে সবাইকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

অবশেষে সংসদীয় অধিবেশন সুন্দর ও সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর