Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজশাহীতে কম্পিউটার বাজারে ৩ গুণ বাজেটেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পণ্য

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৩২ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৮

রাজশাহী: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি পণ্যের চড়া দাম ও ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ধাক্কায় রাজশাহীর কম্পিউটার বাজারে দামে আগুন। প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র‍্যাম, গ্রাফিকস কার্ড কিংবা স্টোরেজ ডিভাইস- প্রতিটি যন্ত্রাংশ কিনতে গিয়েই বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শুধু দাম বাড়াই নয়, তিন গুণ বাজেট বাড়িয়েও পছন্দের মডেল বা কাঙ্ক্ষিত কনফিগারেশনের পণ্য মেলাতে পারছেন না গ্রাহকরা। ফলে নতুন কম্পিউটার তৈরি কিংবা পুরোনোটি আপগ্রেড করার পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে অনেকের।

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাজার ও নিউ মার্কেট এলাকার কম্পিউটার মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে চরম মন্দাভাব। বিক্রেতারা জানান, নতুন চালানে ডিডিআর৫ র‍্যাম, আধুনিক প্রসেসর, প্রিমিয়াম মাদারবোর্ড ও উচ্চক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডের দাম এতটাই বেড়েছে যে এগুলো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান তাদের কষ্টের কথা।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের জিসান বলেন, গত বছর যে এসএসডি কার্ড ১ হাজার ৮০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন, তা এখন বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা হয়েছে। নগরীর আরেক ক্রেতা সিফাত হাসিব জানান, সাড়ে সাত হাজার টাকায় কেনা ডিডিআর৫ র‍্যামের দাম এখন প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে ক্রেতা ইন্দ্রাণী দাশ জানান, ২০২৪ সালে ১৪ হাজার টাকায় কেনা র‍্যামের বর্তমান বাজারমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে রাজশাহীর বাজারে প্রসেসরের মধ্যে ইন্টেলের কোর আলট্রা-৯ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭২ হাজার টাকায়, কোর আই-৯ (১৪ জেন) ৫৬ হাজার এবং কোর আই-৭ (১৪ জেন) ৫০ হাজার টাকায়। এএমডির রাইজেন-৯ মিলছে প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ টাকায়। মাদারবোর্ডের বাজারে এমএসআই ও আসুসের ডিডিআর৫ সংস্করণের মডেলগুলোর দাম ১৬ হাজার ৭০০ থেকে ৩৮ হাজার টাকায় ঠেকেছে।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে র‍্যাম ও স্টোরেজ ডিভাইসের বাজারে। করজেয়ার ১৬ জিবি ডিডিআর৫ র‍্যাম সাড়ে ২৭ হাজার, জিস্কিল ৩২ জিবি ডিডিআর৫ প্রায় ৬৪ হাজার এবং কিংস্টন ৩২ জিবি ডিডিআর৫ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার টাকায়।

স্টোরেজের ক্ষেত্রে স্যামসাং ৯৯০ প্রো ১ টেরাবাইট এসএসডি ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ও ২ টেরাবাইট ৫১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গ্রাফিকস কার্ডের বাজারে হাই-এন্ডের আরটিএক্স ৫০৮০ ১৬ জিবি মডেলের দাম ছুঁয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা।

অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রি নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে। রাজশাহীর লাইসিয়াম কম্পিউটার টেকনোলজির ইনচার্জ হাসিবুর রহমান সুজন জানান, আগে যেখানে মাসে অন্তত ১৫টি কম্পিউটার বিক্রি হতো, এখন ৫টিও বিক্রি হচ্ছে না। আগে যে কম্পিউটার তৈরিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তাতে লাগছে ৮০ হাজার টাকারও বেশি। টেকনিশিয়ান মো. সাকিব হাসান মিলন বলেন, ৫০ হাজার টাকার বাজেট নিয়ে এসে ৭০-৮০ হাজার টাকার হিসাব দেখে ক্রেতারা কেনাকাটা না করেই ফিরে যাচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় সরাসরি আমদানি খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চিপের অতিরিক্ত চাহিদা, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ধাতব কাঁচামালের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের ক্রেতাদের।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর