ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এবং তার ছেলে জিয়াউল হক-এর বিরুদ্ধে ২৭ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে, আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডা. রুহুল হকের নামে মোট ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা। তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। তবে এর বিপরীতে তার আয়ের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। ফলে তার ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭ ৯ হাজার ২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।
সেসঙ্গে ডা. রুহুল হকের নামে পরিচালিত ৩৯টি ব্যাংক হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব হিসাবে মোট ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫ ৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে এবং বর্তমানে হিসাবগুলোতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।
অন্যদিকে তার ছেলে জিয়াউল হকের নামে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকা, যার মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৩ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ টাকা ব্যয়সহ তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩৮ টাকা হওয়ায় বাকি ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা অবৈধ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি জিয়াউল হকের পরিচালিত ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা ও ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে তার এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন ও ধারায় শিগগিরই নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
অবৈধ সম্পদ ও সন্দেহজনক লেনদেন / ছেলেসহ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫৬ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:০৩
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫৬ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:০৩
সারাবাংলা/এনএল/এসআর