উম্মতের ওপর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো দরুদ শরিফ পাঠ করা। দরুদের বরকতময় জিকিরে সিক্ত রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। পবিত্র কোরআনে স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা ও তার ফেরেশতাগণ নবীজির ওপর রহমত ও সালাত প্রেরণের কথা ব্যক্ত করেছেন এবং মুমিনদেরও একই নির্দেশ দিয়েছেন। অধিকন্তু, বিভিন্ন হাদিসে নিয়মিত দরুদ পাঠের অগণিত ফজিলত, পাপমোচন এবং কিয়ামতের কঠিন ময়দানে নবীজির সুপারিশ বা শাফায়াত লাভের সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে।
দৈনন্দিন নানাবিধ ব্যস্ততার মধ্যেও যেন আমরা সহজেই এই আমলটি অব্যাহত রাখতে পারি, সেজন্য পবিত্র হাদিস শরিফে বর্ণিত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, সহজ ও বরকতময় ১০টি দরুদ শরিফ নিচে উপস্থাপন করা হলো
সহজে মুখস্থ রাখার ১০টি ছোট দরুদ শরিফ…
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের দরুদ
আরবি: اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আনজিলহুল মাকআদাল মুকাররাবা ইনদাকা ইয়াওমাল কিইয়ামাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং কিয়ামতের দিনে আপনার নিকটতম আসনে তাকে সমাসীন করুন। (আল-মুজামুল কাবীর)
সকল মুমিনের কল্যাণ প্রার্থনার দরুদ
আরবি: اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ وَصَلِّ عَلٰى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিকা, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।
অর্থ: হে পরম করুণাময় আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তামাম মুমিন ও মুসলিম নর-নারীর ওপর রহমত অবতীর্ণ করুন। (সহিহ ইবনে হিব্বান)
দরুদ ও সালামের সংক্ষিপ্ত আমল
আরবি: اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّسَلِّمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া সাল্লিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। (মুসনাদে আহমাদ)
তাশাহহুদ ও সালামের দরুদ
আরবি: اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
অর্থ: হে নবী! আপনার প্রতি স্বস্তি ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং অবতীর্ণ হোক আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত। (সহিহ বুখারি)
নবীজির (সা.) ওপর সংক্ষিপ্ত সালাত
আরবি: صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যি মুহাম্মাদ।
অর্থ: মহান আল্লাহ রহমত নাজিল করুন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর। (সুনানে নাসাঈ)
পরিবারবর্গসহ বরকতের দরুদ
আরবি: اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا جَعَلْتَهَا عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআল সালাতিকা ওয়া বারাকাতিকা আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা জাআলতাহা আলা আ-লি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবারের ওপর আপনার রহমত ও বরকত অবতীর্ণ করুন, যেভাবে ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবারের ওপর করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)
পরিবারসহ শান্তির দরুদ
আরবি: اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি রহমত ও শান্তির অসীম ধারা বর্ষণ করুন মুহাম্মদ (সা.) এবং তার পরিবারবর্গের ওপর। (আল-আজকার)
সংক্ষিপ্ত দরুদ ও সালাম
আরবি: صَلّى اللهُ عَلٰى النَّبِيِّ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যি ওয়া সাল্লাম।
অর্থ: আল্লাহর রহমত ও শান্তি অবতীর্ণ হোক আমাদের প্রিয় নবীর ওপর। (নাতাইজুল আফকার)
সংক্ষিপ্ত ইবরাহিমি দরুদ
আরবি: اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরাহিম, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আ-লি ইবরাহিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রহমত নাজিল করুন যেভাবে ইবরাহিম (আ.)-এর পরিজনের ওপর করেছেন। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বরকত নাজিল করুন যেভাবে ইবরাহিম (আ.)-এর পরিজনের ওপর করেছেন। (সুনানে নাসাঈ)
উম্মী নবীর ওপর ভালোবাসার দরুদ
আরবি: اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি।
অর্থ: হে আল্লাহ! উম্মী নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আপনার রহমত অবতীর্ণ করুন। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)
এই সহজ ছোট ছোট দরুদগুলো সহজে মুখস্থ করে নিয়ে নিয়মিত আমল করা সম্ভব। অল্প সময়ের এই আমলগুলো আখেরাতের পাথেয় অর্জনে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফায়াত লাভে মহাকল্যাণকর ভূমিকা রাখবে।